কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা সংকট। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন সাড়ে ৭০০ থেকে পৌনে ৮০০ রোগী ভর্তি থাকায় নির্ধারিত শয্যার বাইরে অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে হাসপাতালের চতুর্থ তলার মেডিসিন বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত বেডে জায়গা না হওয়ায় বেশ কয়েকজন রোগী মেঝেতে ম্যাট্রেস ও চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কেউ শুয়ে আছেন, কেউ আবার মেঝেতেই বসে চিকিৎসকের পরামর্শের অপেক্ষা করছেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও পর্যাপ্ত সুবিধা ছাড়াই এভাবে থাকতে হচ্ছে তাদের।
থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত বাবা নুরুল ইসলামকে নিয়ে প্রায় তিন দিন ধরে হাসপাতালে অবস্থান করছেন তার ছেলে জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার বাবাকে নিয়ে এখানে আসছি। প্রায় তিন দিন হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো সিট পাইতেছি না। ফ্যানও নাই, গরমের মধ্যে ভুগতেছি। এখানে আসার পর থেকে অনেক সমস্যা হইতেছে।’
নন্দাইল চৌরাস্তা এলাকা থেকে বুকের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন লিমন ইসলাম। তার মা কুলসুমা বেগম বলেন, ‘সিট পাই নাই। পাকা বেড নাই। বেড না থাকার কারণে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। অনেক সমস্যা হইতাছে।’
কটিয়াদী থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার সারা শরীর ব্যথা। আজকে দুই দিন ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি আছি। কোনো সিট পাই নাই। সিট না পাওয়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে। গরিব মানুষ হওয়ায় অনেক সময় সিট পাওয়া যায় না। দুই দিন, পাঁচ দিন, সাত দিন—এভাবেই আমাদের দিন যাচ্ছে।’
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, শুধু শয্যা সংকট নয়, হাসপাতালের খাবারের মান ও সরবরাহ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। পাশাপাশি টয়লেট অপরিষ্কার থাকার অভিযোগও করেছেন অনেকে। কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজন জানান, টয়লেটের পরিবেশ ভালো না থাকায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে প্রাকৃতিক কাজ সারতে হচ্ছে।
ওয়ার্ডে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে ওয়ার্ডের ভেতরে শসা, খিরা ও আচার বিক্রেতাদের ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, এভাবে বিভিন্ন ধরনের বিক্রেতা ও বহিরাগতদের চলাচলের কারণে ওয়ার্ডের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যাহত হচ্ছে। রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘৫০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন সাড়ে ৭০০ থেকে পৌনে ৮০০ রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে মেঝেতে ম্যাট্রেস ও চাদর দিয়ে রোগীদের রাখতে হচ্ছে। এটি আদর্শ চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে যায় না। জনবল, বিশেষ করে চিকিৎসক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাড়ানো প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত দর্শনার্থীর কারণে হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। রোগীর সঙ্গে সীমিতসংখ্যক স্বজন এবং নির্ধারিত ভিজিটিং টাইম মেনে চললে চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
কেকে/ এমএস