জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের হিন্দা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী হিন্দা শাহী মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে হযরত খাজা শাহ মা. শাহেন শাহ পাক (রহ.)-এর বাৎসরিক ওরস মোবারক।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকেই ওরসকে মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য ভক্ত, মুরিদ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ।
প্রতিবছরের মতো এবারও ওরস উপলক্ষে হিন্দা শাহী মসজিদ প্রাঙ্গণে ছিল ব্যাপক আয়োজন। ধর্মীয় আলোচনা, দোয়া-মাহফিল, জিকিরসহ নানা আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য করা হয় বিশাল খাবারের আয়োজন।
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, এবারের ওরসে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের খাবারের বাজেট করা হয়েছে। এর মধ্যে দুপুরে প্রায় ৩০ হাজার এবং রাতে ২০ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়।
খাবারের জন্য মোট ১২০ মণ চাল, ৭০ মণ ডাল ও ২৮০ কেজি মাংস রাখা হয়েছে। যার মধ্যে সকালে খিচুড়ি রান্নার জন্য দুই মণ চাল ও এক মণ ডাল ব্যবহার করা হয়। দুপুরে সাদা ভাত ও মাংস দিয়ে বুটের ডাল রান্নার জন্য ৮১ মন চাল, ৫০ মণ ডাল ও ১৪০ কেজি মাংস ব্যবহার করা হয়। রাতে খিচুড়ি রান্নার জন্য ৩৫ মণ চাল, ১৫ মণ ডাল ও ১৪০ কেজি মাংস ব্যবহার করা হবে।
এছাড়া ওরসে আগত মানুষের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হয় পায়েস। পায়েস তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪১ কেজি চাল, ১০ মণ দুধ ও ১২০ কেজি চিনি।
হিন্দা শাহী মসজিদ শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি জয়পুরহাটের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাও। প্রতিবছর এ মসজিদে অনুষ্ঠিত ওরস মোবারককে কেন্দ্র করে হিন্দা গ্রামে বসে মানুষের মিলনমেলা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ওরস উপলক্ষে মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশে বসে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ভ্রাম্যমাণ দোকানিরাও এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ব্যবসার সুযোগ পান। ফলে ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যেও সৃষ্টি হয় প্রাণচাঞ্চল্য।
হিন্দা শাহী মসজিদ পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা জানান, ওরসে প্রতি বছরই বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এবারও আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে বড় পরিসরে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকে শুরু করে দুপুর ও রাত পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে খাবার রান্না ও পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়।
বিশাল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী রান্না, পরিবেশন ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিলেন আয়োজক কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। মানুষের সুশৃঙ্খলভাবে খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করতেও নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বিশাল খাবারের আয়োজন সব মিলিয়ে হিন্দা শাহী মসজিদের বাৎসরিক ওরস মোবারক পরিণত হয়েছে এক বৃহৎ আধ্যাত্মিক ও সামাজিক মিলনমেলায়।
কেকে/এআই