পাবনার ফরিদপুর উপজেলার আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটাল নামে বেসরকারি ক্লিনিকে (সিজার অপারেশন) অস্ত্রোপচারের পর আয়েশা খাতুনসহ ১২ জন রোগীর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মার জীবাণু পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
আয়েশার পরিবারের দাবি, শুধু তিনি নন। একই হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানো আরও ১০ রোগীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। পরে তাদেরও যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, পৌর সদরে অবস্থিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। গত ৩১ মে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য পৌর সদরের থানাপাড়া মহল্লার গৃহবধূ আয়েশা খাতুনকে (১৮) ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থান না শুকানোয় স্বজনেরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি গাজীপুরে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পরিবারটি হিমশিম খাচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী আক্রান্ত বাকি ১০ জন হলেন— উপজেলার বেরহাউলিয়া গ্রামের আবু রায়হানের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন (২৪), থানাপাড়ার সাগরের স্ত্রী জয়া রানী (২০), বনওয়ারীনগরের রুলদহ গ্রামের সুমনের স্ত্রী মারুফা খাতুন, বেরহাউলিয়া তিথলিয়া গ্রামের বেলাল হোসেনের স্ত্রী খুশি খাতুন (১৮), গোপালনগরের মিঠাপাড়া গ্রামের মাসুদ রানার স্ত্রী মিতা খাতুন (৩২), গোপালনগরের সোনাহারা গ্রামের মতিউর রহমানের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (৬৫), ডেমরা শাকপালা গ্রামের আরিফ হাসানের স্ত্রী তানিয়া খাতুন (২৮), বনওয়ারীনগরের হালিশা দয়া গ্রামের ইনজামুল হকের স্ত্রী লিমা খাতুন (২২), বেরহাউলিয়া গ্রামের নাঈম হোসেনের স্ত্রী রিতা খাতুন (১৮) এবং বনওয়ারীনগরের আমলাপাড়া গ্রামের শামীম হোসেনের স্ত্রী যুতি খাতুন (২২)।
যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞ (অবসরপ্রাপ্ত) ক্যাপ্টেন ডা. সরওয়ার জাহান ফয়েজ বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এ দায় এড়াতে পারে না।’
আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর থেকে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার খরচ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। তারা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা হবে। এ ছাড়া হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার নতুন করে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হাসান শাওন বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
কেকে/এআই