জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে মারামারি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গরম পানি ছোড়ার কারণে তিতাশ নামে এক ব্যক্তি শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঝলসে আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলার নিশ্চিন্তা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নিশ্চিন্তা গ্রামের মৃত ডা. আফতাব উদ্দিন মন্ডলের বড় ছেলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুস সামাদ মাষ্টার (৮২) এবং ছোট ছেলে সাজ্জাদুর রশিদ (৬৫)। দুই পরিবারের মধ্যে বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ও জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মঙ্গলবার সকালে আব্দুস সামাদ মাষ্টার তার জায়গা ঘেরার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন শহিদুলসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মিস্ত্রি দিয়ে কাজ শুরু করেন। এ সময় তার ভাতিজা সুমন এসে কাজে বাধা দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেন ওয়ার্ড সদস্য।
সমঝোতার আলোচনায় সুমন প্রথমে গরম পানি ছিটান। ওই গরম পানি সামাদ মাষ্টারের মেয়ের জামাই তিতাশের শরীরে পড়লে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে রেফার করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গরম পানি ছোড়ার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। আব্দুস সামাদ মাস্টার তার ছোট ভাইয়ের পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে যথেষ্ট সুযোগ দিয়ে আসছেন।
এরপরও জমি ও সীমানা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সুমনের পরিবার প্রায়ই তার সঙ্গে বিরোধে জড়ায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এদিকে, সামাদ মাস্টারের লোকজন সুমনের পরিবার ও বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে এমন অভিযোগ জানান সুমন। খবর পেয়ে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ উভয় পক্ষকে কাজ বন্ধ রেখে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়।
সুমন বলেন, ‘আজ জমি মাপার কথা ছিল। কিন্তু আমার বড়আব্বা জমি না মেপে লোকজন নিয়ে এসে জোরপূর্বক কাজ শুরু করেন। আমি বাধা দিতে গেলে আমার ও আমার স্ত্রীর ওপর হামলা করা হয়। বাড়ির গ্লাস ভেঙে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে আমি ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চাইলে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।
সুমন আরও অভিযোগ করেন, আমার বড়আব্বার এক জামাই পুলিশের এসআই। তিনি তার প্রভাব খাটিয়ে এসব জোরপূর্বক করছেন।
গরম পানি ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন বলেন, ‘আমি কারও গায়ে গরম পানি দিইনি। বাড়িতে ভাত রান্না হচ্ছিল। তারা আমাকে মারতে এলে গরম পাতিলে পড়ে যায়।’
সুমনকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমনকে অবরুদ্ধ অবস্থায় পাননি। বরং তিনি নিজেই অবরুদ্ধ হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পুলিশ উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জায়গায় কাজ বন্ধ রেখে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
আব্দুস সামাদ মাস্টার বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে আমি অনেক বিষয়ে ছাড় দিয়ে আসছি। আমার জায়গায় কাজ করার জন্য আমি মিস্ত্রি লাগিয়েছিলাম। এ সময় আমার ভাতিজা গরম পানি ছিটিয়ে দেয়। এতে আমার মেয়ের জামাই গুরুতর আহত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। সব সময় ন্যায়-নীতি মেনে চলেছি। আমার কোনো ছেলে নেই। এ কারণে ভাই ও ভাতিজাকে অনেক বিষয়ে ছাড় দিয়েছি। তারপরও তারা আমার সঙ্গে ঝামেলা করে আসছে।’
সামাদ মাস্টারের দাবি, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য ও অন্যদের উপস্থিতিতেই তার ভাতিজা প্রথমে গরম পানি ছিটিয়েছেন এবং এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।
জাহাঙ্গীর হোসেন শহিদুল বলেন, ‘সকালে আমাকে ডাকা হলে আমি ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার বিষয়ে কথা বলছিলাম। এরই একপর্যায়ে সুমন গরম পানি ছিটাবে এটা আমি ভাবতেই পারিনি। গরম পানি ছিটানোর কারণে তিতাশ নামে একজনের শরীর ঝলসে গেছে। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়।’
কেকে/এআই