মাদকের আধিপত্য ও পূর্ব বিরোধের জেরে মাদক ব্যবসায়ী শুভ চন্দ্র দাসকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও মো. সোহান (২৪)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তবে ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা হয়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর মাদক ব্যবসায়ী ফতের বাড়িতে ডিবির অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে তথ্যদাতা হিসেবে শুভকে সন্দেহ করে এবং মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে পুরনো বিরোধের জের ধরে অনিক ও সুমন মিলে শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবার বিনিময়ে শুভর সহযোগী মাদক ব্যবসায়ী সোহানকে হাত করে ডেকে আনা হয়। এরপর অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে হামলা চালায়। এসময় অনিক ও অহিদ গুলি চালান, আর বাকিরা ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান জানান, অভিযান এখনও চলমান রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে শহরের চাষাড়ায় হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামন্দিরের সামনের রাস্তা থেকে শুভ চন্দ্র দাসের (৩০) গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। সে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার গলাচিপা এলাকার হরি চন্দ দাসের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কেকে/এআই