শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● মারা গেছেন বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী      ● দেশে ডেঙ্গুতে ৯ মাসে প্রাণ গেছে ২৫০ জনের      ● হামে ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু      ● ময়মনসিংহে বাসচাপায় অটোরিকশার ৭ যাত্রী নিহত      ● সেপ্টেম্বরে ৩ শতাংশ বাড়ল রেমিট্যান্স      ● সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ মদের গুদাম সিলগালা      ● বাংলাদেশকে ৯ গোল দিয়ে আসিয়ান কাপের ফাইনালে ইন্দোনেশিয়া      
দেশজুড়ে
গোদাগাড়ীতে নদীভাঙনে নিঃস্ব শত শত পরিবার, মেলেনি আশ্রয়
মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী
প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে চর রুবেলপাড়া, আলাতুলি, মাঝচর, চার কোদালকাটি, আশারাদহ ও বগচরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অনেক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। টিকে থাকা ঘরগুলোতেও এক গলা পর্যন্ত পানি উঠেছে।

চরম দুর্ভোগে থাকা মানুষের অভিযোগ, প্রায় ২০ দিন ধরে পানিবন্দী থাকলেও তাদের খোঁজ নিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কেউ আসেননি। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অনেক পরিবার অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। রাত কাটছে পানির মধ্যে খাটের ওপর সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে।

আলাতুলি ইউনিয়নের সুলতানা বেগম (৪৫) বলেন, ‘দুই শতকের বসতভিটা নদীর পেটে চলে গেছে। চার সন্তান নিয়ে সারারাত খাটের ওপর পানির মধ্যে বসে ছিলাম। ভোটের সময় নেতাদের পায়ের নিচে জায়গা থাকে না, এখন এক মুঠো মুড়ি দেওয়ারও কেউ নেই। আমরা ত্রাণ চাই না, শুধু মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই চাই।’

চর রুবেলপাড়ার রহিম উদ্দিন (৫৮) বলেন, তার কৃষিকাজ ও দুটি গরুই ছিল একমাত্র সম্বল। বন্যায় গোখাদ্য ভেসে গেছে। গরু বাঁচাতে গিয়ে নিজেরাই না খেয়ে আছেন।

মাঝচরের আয়েশা খাতুন (৩০) জানান, তার আট মাসের শিশুটি বিশুদ্ধ পানির অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। নদীর গর্জনে প্রতিরাতেই আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

এদিকে বসতভিটা হারানো মানুষজন নৌকায় করে ঘরের আসবাব ও গবাদিপশু নিয়ে বিভিন্ন ঘাটে আশ্রয় নিচ্ছেন। কিন্তু সেখানেও নেই পর্যাপ্ত শুকনো জায়গা, খাবার কিংবা পশুখাদ্যের ব্যবস্থা।

তবে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, তার কাছে নদীভাঙনে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার কোনো তথ্য নেই। আশারাদহেও নদীভাঙনের খবর পাননি তিনি। তবে ২০০ পরিবারকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। নদীভাঙন বাড়লে প্রয়োজনীয় ত্রাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চরবাসীর দাবি, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হোক।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  গোদাগাড়ী   নদী ভাঙন   আশ্রয়  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close