গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ হামলায় দুই পক্ষের লোকই আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার টোক ইউনিয়নের পাঁচুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই কাপাসিয়া থানায় অভিযোগ করেছে।
এক পক্ষের দাবি, প্রতিপক্ষ জমিতে ঢুকে কলাগাছ ও সবজি খেতের বেড়া ভাঙচুর করে হামলা চালিয়েছে। অন্য পক্ষের দাবি, তারা আগে ওই জমি বায়না করেছিল; পরে প্রতিপক্ষ জটিলতা থাকা জমিটি গোপনে কিনে অতিরিক্ত জায়গা দখলের চেষ্টা করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ইকবাল হোসেনের অভিযোগ, তার প্রবাসী বড় ভাই মো. কবির হোসেন ও বোন পারুল বেগম প্রায় এক বছর আগে আব্দুল লতিফের কাছ থেকে সাত গন্ডা জমি কিনে সেখানে কলাবাগান ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছিলেন। শুক্রবার তারা ওই জমিতে গেলে আব্দুস সহিদ, কামরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন, আসাদ মিয়া, সাহিনা ও আকলিমাসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে ঢুকে কলাগাছ ও সবজি খেতের বেড়া ভাঙচুর করেন।
তাদের বাধা দিলে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ইকবাল। এতে তার মাথায় দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয় এবং তার মা রাহিমা, বোন পারুল ও স্ত্রী জুয়েনা আক্তার মিলি আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্ত্রীর গলা থেকে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
বর্তমানে ইকবাল হোসেন, তার মা রাহিমা ও স্ত্রী জুয়েনা আক্তার মিলি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ইকবাল হোসেন নামে একজন রোগী শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মাথায় আঘাতজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার চিকিৎসা চলছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে তাদের বাড়ির পাশের ওই জমি তার জ্যাঠা লতিফ মিয়ার কাছ থেকে এক লাখ টাকায় বায়না করেছিলেন তারা। জমিটির কাগজপত্রে জটিলতা থাকায় তা সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা জানতে পারেন, ইকবালরা ওই জমি গোপনে ক্রয় করেছেন।
সাখাওয়াতের দাবি, ক্রয় করা জমির পরিমাণের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ জায়গা দখলের চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এ সময় ইকবাল পক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে কয়েক দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং তার চাচিকেও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
কাপাসিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/এআই