মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে মাদকমুক্ত সুশীল সমাজ গঠনে মাদকবিরোধী র্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২সেপ্টেবর) সকালে লামা থানা পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সচেতনতামূলক র্যালিটি ইউনিয়নের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে থানার পুলিশ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ‘মাদক মুক্ত সমাজ গড়ি’ ও মাদকের কুফল সংক্রান্ত সচেতনতামূলক ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা র্যালিতে অংশ নেন।
র্যালি শেষে ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আজিজনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন, আইসি ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ির হিমেল রায়, আইসি আজিজ নগর পুলিশ ফাঁড়ির মো.হামিদুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তরুণ ও যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য উপস্থিত জনগণের প্রতি আহ্বান জানান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে কায়ছার হামিদ বলেন, ‘মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ সমাজ ও এলাকাকে রক্ষা করতে লামা থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক সমাজের অন্যতম প্রধান শত্রু। তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে হলে পুলিশ ও সাধারণ জনগণকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। মাদক কারবারি বা এর পৃষ্ঠপোষক যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকের রুট চিহ্নিত করে নিয়মিত বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিরীহ কোনো ব্যক্তি যেনো অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।’
স্থানীয় সাধারণ নাগরিক ও সচেতন সমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে যেকোনো তথ্যের সন্ধান দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার অনুরোধ করা হচ্ছে। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।’
মো. মঈন উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতনামূলক বক্তব্য প্রধান করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত করতে পুলিশের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
কেকে/এআই