চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অতিবর্ষণে ধসে পড়া চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এক বছরেও পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় মনোহরপুর, সন্তোষপুর, রাঙ্গিয়ার পোতা ও সিংনগর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এতে আশপাশের কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বর্ষা মৌসুমে টানা ভারী বৃষ্টিতে একে একে চার এলাকার মূল সংযোগ সেতুগুলো ধসে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও গত এক বছরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। সেতুগুলো দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, শিক্ষার্থী ও জরুরি রোগীরা। কৃষিনির্ভর এসব এলাকার ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করছে।
মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সেতু ধসে পড়ার পর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আব্দুর রশিদ বলেন, “ধসে যাওয়া সেতুগুলোর স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে বাজেট অনুমোদন ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।”
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি কার্যতালিকাভুক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই কাজ শুরু করা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত চারটি সেতু পুনর্নির্মাণ করে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক হাজারো মানুষকে।
কেকে/সাশ