দেশের বিভিন্ন জেলায় গড়ে তোলা সংঘবদ্ধ বাইক চুরি চক্রের অন্যতম মূল হোতা ও ২৮ মামলার পরোয়ানাভুক্ত দুর্ধর্ষ চোর মিল্টন সরকারকে (৪৯) সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের চোরাই বাইকসহ গ্রেপ্তার করেছে মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ রোডস্থ নুর ফুডস অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে মহাসড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হলিউড স্টাইলে পালানোর চেষ্টা ও গ্রেপ্তার :
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে শ্রীমঙ্গল-হবিগঞ্জ মহাসড়কে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি নীল-কালো রঙের ইয়ামাহা ১৫৫ সিসি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। সংকেত পেয়ে চালক দ্রুত বাইক ঘুরিয়ে বিপরীত দিকে পালানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় ডিবির এসআই মোহাম্মদ আজিজুল গাফফারের নেতৃত্বে ডিবি ফোর্সের সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আটক করে।
আটকের পর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পেরে মিল্টন এলেমেলো তথ্য দিতে থাকে। পরবর্তী উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের চোরাই ইয়ামাহা বাইকটি জব্দ করা হয়।
বহুরূপী ছদ্মবেশ ও চুরির সাম্রাজ্য :
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মিল্টন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে বহুরূপী ছদ্মবেশ ধারণ করত। কখনো ‘মিল্টন কুমার সাহা’, কখনো ‘মিল্টন সরকার’ আবার কখনো ‘মো. সোহেল’ নামে পরিচিত হতো সে।
এই ছদ্মবেশের আড়ালেই সে সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় চোরাই সিন্ডিকেট পরিচালনা করত। চুরিকৃত বাইকগুলো দ্রুত হাতবদল করে অজ্ঞাত চোরাকারবারীদের কাছে বিক্রি করাই ছিল তার প্রধান পেশা।
জামিনে বেরিয়েই পুনরায় অপরাধে জড়াচ্ছে মিল্টন:
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া এলাকা থেকে দুইটি চোরাই মোটরসাইকেল ও চুরি করার সরঞ্জামসহ মিল্টনকে গ্রেপ্তার করেছিল মৌলভীবাজার ডিবি পুলিশ। তবে জামিনে বেরিয়েই সে আবারও তার পুরোনো অপরাধের নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে তোলে।
অভিযোগের বহর ও রেকর্ড :
মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য্য জানান, মিল্টন সরকার একজন চিহ্নিত ও অত্যন্ত চতুর বাইকচোর। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামেই রয়েছে ২১টি মামলা। এ ছাড়া মৌলভীবাজারে ৫টিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ২৮টি চুরির মামলা বিচারাধীন।
কেকে/এমএ