সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধস      জ্বালানিতে জ্বলবে জনগণ      নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী      লিটারে ২০ টাকা বাড়ল ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম      সেপ্টেম্বরের ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার ৮৭ কোটি টাকা      ৩৫ জন সফর সঙ্গীসহ প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন আগামীকাল      রামিসার মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও দ্রুত শেষ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
নিরাপত্তা-শঙ্কা ও রাজনৈতিক বিরোধে বন্ধ ১২৫ বছরের নৌকাবাইচ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

নিরাপত্তা-শঙ্কা ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়ী বাজারসংলগ্ন কুমার নদে ১২৫ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা এবার বন্ধ রাখা হয়েছে।

প্রতিবছর ৯ আশ্বিন এ নৌকাবাইচ ও মেলার আয়োজন করা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এবারের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বসা এ মেলা স্থানীয় লোকসংস্কৃতি ও বিনোদনের অন্যতম বড় আয়োজন। এবার মেলা না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেলজুড়ী বাজারসংলগ্ন কুমার নদে শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ‘তেলজুড়ী নৌকাবাইচের মেলা’ নামে পরিচিত এ আয়োজন ঘিরে প্রতিবছর ব্যাপক জনসমাগম হয়।

স্থানীয় রীতি অনুযায়ী, বাজার বণিক সমিতি ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে মেলা পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ কমিটির সভাপতি করা হয় বিএনপি নেতা শাকির আহমেদ শাকু ফকিরকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. রহমান মেম্বারকে।

সম্প্রতি কমিটির বৈঠকে মেলা আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে সভাপতি শাকির আহমেদ শাকু ফকির পদত্যাগ করলে কমিটিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরে মেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিটির সাবেক সভাপতি শাকির আহমেদ শাকু ফকির বলেন, ‘সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খারদিয়া ও পরমেশ্বরদী গ্রামে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। গত বছর খারদিয়ার লোকজন আমাদের এলাকাতেও হামলা চালায়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই উপজেলার বিএনপির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া মেলা আয়োজন করা কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশারের সমর্থক একটি পক্ষ মেলা আয়োজনে বাধা দিচ্ছে। বড় ধরনের সংঘাত এড়াতেই আমি পদত্যাগ করেছি। আমি তাদের বলেছিলাম, আপনারা যে কেউ দায়িত্ব নিয়ে মেলা আয়োজন করুন, আমি সার্বিক সহযোগিতা করব। পরে জানতে পারলাম, মেলা এ বছর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

তবে রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ নাকচ করে মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রহমান মেম্বার বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণেই এবার মেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। গত বছর মেলা-পরবর্তী সময়ে সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল। এবারও মেলার কয়েক দিন আগে ময়েনদিয়া, জয়পাশা, ধুলজুড়া ও পরমেশ্বরদীর লোকজনের সঙ্গে খারদিয়া গ্রামের লোকজনের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে মেলা হলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেলা আয়োজনের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়, কিন্তু স্পনসরও পাওয়া যায়নি। এসব কারণে মেলা বন্ধ রাখা হয়েছে।’

মেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তারা বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনা হলেও মেলা বন্ধের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের ভূমিকা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতার ইন্ধনে তাদের কিছু সমর্থক লোকঐতিহ্যের ধারক এ শতবর্ষী মেলা বন্ধে তৎপর ছিলেন। তাদের তৎপরতার কারণে মেলা কমিটি বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে চায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা বিরোধের কারণে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন বন্ধ হওয়া উচিত নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নৌকাবাইচ ও মেলা পুনরায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মেলার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত মিষ্টির দোকানি আ. জব্বার মোল্যা বলেন, ‘বংশপরম্পরায় আমরা প্রায় ১০০ বছর ধরে এ মেলায় মিষ্টি বিক্রি করে আসছি। আমার দাদা, বাবা এবং পরে আমি প্রায় ৫০ বছর ধরে আমিত্তি, গজা, দানাদার ও জিলাপি বিক্রি করে আসছি। এ বছর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ময়দা, চিনি ও বেসন কিনেছি। ইতোমধ্যে কয়েক মণ মিষ্টিও তৈরি করা হয়েছে। মেলা বন্ধ হওয়ায় আমার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হবে।’

এমন অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন দোকানি। তারা বলেন, সারা বছর এ মেলার অপেক্ষায় থাকেন তারা। মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেন, ‘মেলা বন্ধের বিষয়ে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। মেলা কমিটি আমার সহযোগিতা চাইলে আমি সব ধরনের সহযোগিতা করব।’

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে মেলা কমিটির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা মেলা করবে বলে জানিয়েছিল। বন্ধের বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। আমি যোগাযোগ করে যাতে ঐতিহ্যের ধারক শতবর্ষী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করব। শতবর্ষী ঐতিহ্য বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই।’

উল্লেখ্য, গত বছর মেলাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে পার্শ্ববর্তী জয়পাশা গ্রামে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়পাশার পক্ষ নিয়ে তেলজুড়ীতে হামলা চালায় খারদিয়ার লোকজন। হামলাকারীরা ১৮টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন।

ভোর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে তেলজুড়ী ব্রিজসংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


কেকে/সাশ



আরও সংবাদ   বিষয়:  ফরিদপুর   নৌকা বাইচ   বন্ধ   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close