যশোরের কেশবপুর প্রেস ক্লাবে হামলা চালিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে ক্লাব দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুর বিরুদ্ধে। এ সময় হামলায় লোকসমাজ পত্রিকার কেশবপুর প্রতিনিধি জয়দেব চক্রবর্তী, দৈনিক কল্যাণের আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ, দৈনিক সমকালের কেশবপুর প্রতিনিধি মোতাহার হোসাইন ও সময়ের খবরের জাহিদ হাসানসহ অন্তত সাতজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত কেশবপুর প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজে ব্যস্ত থাকা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে ক্লাবের ভেতরে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।
হামলার পর অভিযুক্তরা প্রেস ক্লাবের মূল কার্যালয় দখল করে নিজেদের মতো করে ৫১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই কমিটিতে কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সদস্য ও দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি মাহাবুর রহমানকে আহ্বায়ক, হারুন আর রশিদকে সদস্যসচিব এবং ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুকে সদস্য করা হয়েছে।
আহত সাংবাদিকদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাংবাদিক জাহিদ হাসান বলেন, ‘হঠাৎ বহিরাগতরা এসে আমাদের ওপর হামলা ও মারধর করে। হামলায় জয়দেব চক্রবর্তী ও আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ গুরুতর আহত হলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’
কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফউজ জামান অভিযোগ করে বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বহিরাগতরা এসে মব তৈরি করে জোরপূর্বক প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় আমাদের ক্লাবের ভেতর আটকে রাখা হয়।’
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে একটি বিরোধ চলছে। আমার ফোর্স সেখানে গিয়েছিল। আমরা তাদের থানায় আসতে বলেছি। দুই পক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনা করব।’
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু জানি না। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে কেউ অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দিতে আসেনি।’