স্বজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন খাদিজা বেগম (৫২)। যে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্বজনের মরদেহ নিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই অ্যাম্বুলেন্সই উল্টে গিয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় তার ছেলে, পুত্রবধূ ও তিন বছরের নাতি আহত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাথইলচাপড় এলাকায় রানীরহাট-মালঞ্চা আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত খাদিজা বেগম বগুড়া সদরের বানদিঘী-ইসবপুর গ্রামের মৃত নুরুজ্জামান মণ্ডলের স্ত্রী। দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন তার ছেলে শাহ পরান (২৮), পুত্রবধূ জুই আক্তার (২২) ও নাতি সাব্বির (৩)।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, খাদিজা বেগমের মেয়ে জান্নাতির শাশুড়ি কোহিনূর বেগম (৭০) বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। পরে ভোরে কোহিনূর বেগমের মরদেহ নিয়ে ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্সে নন্দীগ্রাম উপজেলার বনগ্রামে তার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা।
অ্যাম্বুলেন্সটিতে কোহিনূর বেগমের মরদেহের সঙ্গে ছিলেন খাদিজা বেগম, তার ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিসহ পরিবারের কয়েকজন।
শাহ পরান জানান, মাথইলচাপড় এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশের একটি সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে তার মা খাদিজা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি, তার স্ত্রী ও ছেলে আহত হন।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সচালক পালিয়ে গেছেন।
ওসি আশিক ইকবাল বলেন, “দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সে থাকা কোহিনূর বেগমের মরদেহ এবং দুর্ঘটনায় নিহত খাদিজা বেগমের মরদেহ পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছেন। আহত তিনজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
কেকে/সাশ