রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী ইউসুফ ও ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি লিটন মাহমুদ বাবু। তাদের হস্তক্ষেপে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের সামনে অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) শহিদুল হাসানের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন।
পরে তারা কলেজের ভেতরে গিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও এসআরবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কলেজের বাইরে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) শহিদুল হাসানকে টিচার্স কনফারেন্স রুমে অবরুদ্ধ করে রেখে পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী ইউসুফ ও ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি লিটন মাহমুদ বাবু ঘটনাস্থলে আসেন। তারা শিক্ষার্থী অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) শহিদুল হাসান এবং অধ্যাপক সুফিয়া আখতারের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালামের সঙ্গেও কথা বলেন।
আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবদুস সালামের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্তের পর দুই অধ্যক্ষই ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন কলেজ পরিচালনা পর্ষদ লে. কর্নেল (অব.) শহিদুল হাসানকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়। অপরদিকে, গত ২০ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইডেন মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সুফিয়া আখতারকে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। এ নিয়ে দুই অধ্যক্ষকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যাকে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে, তাকেই দায়িত্বে রাখতে হবে এবং আগের নিয়োগের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হবে।
পরে হাজী ইউসুফ ও লিটন মাহমুদ বাবু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
কেকে/এআই