রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে বাড়ি ভেঙে জমি দখল চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে আগেও ছিনতাই ও মারামারির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ সব তথ্য জানান মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো— মো. লিমন ও মনোয়ার হোসেন সাদ্দাম। শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে চাঁদ উদ্যান হাউজিং এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে একটি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক মানুষ কার্যালয়ে ঢুকে একটি কক্ষের তালা ভেঙে বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানায়, চাঁদ উদ্যানে জমি দখলের ঘটনায় আনোয়ার হোসেন রিপন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। গতকাল মামলাটি করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৪২৭, ৩৮০ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, মামলার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় লিমন ও সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লিমন নড়াইলের লোহাগড়া থানার কুমড়ি গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। তিনি বর্তমানে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা উদ্যানের ২৯ নম্বর বাসায় থাকেন। আর সাদ্দাম তোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি এলাকায় বজলু করিমের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
ওসি আব্দুল হালিম বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে এর আগে ছিনতাই ও মারামারির মামলা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুক্তিতে ছিনতাই ও জমি দখলের কাজে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।’
চাঁদ উদ্যানের জমি দখলের ঘটনায় করা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান মোহাম্মদপুর থানার ওসি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যদি কারো সঠিক জমি হয়ে থাকবে তারা আদালতের মাধ্যমে সমাধান হবে কিন্তু সন্ত্রাস কিশোর গ্যাং নিয়ে কোনো প্লট দখল করতে যাওয়া আইন পরিপন্থী কাজ, তাই কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ জমি সংক্রান্ত বিষয় জানা গেছে, যারা জমি দাবিদার করে হামলা লুটপাট চালিয়েছে, তারা জমির ওয়ারিশ দাবি করলেও রাহিমা বেগম তার ভাগের অংশ ৯ শতাংশ অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছে। এখন তারই সন্তান জমিটি দখল করতে এ কাণ্ড ঘটিয়েছে।
কেকে/এআই