মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত, মজুতদারির চেষ্টা হলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা      ● মাঠে নামার আগেই সেমিফাইনালের টিকিট পেল বাংলাদেশ      ● দীপু মনির ঘনিষ্ট সহচর মিনহাজ মান্নান ইমনের কবজায় ডিএসই      ● প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন      ● হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১০      ● ডেঙ্গুতে আরও আটজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২০৩৬      ● সিঙ্গাপুরের কাছেও হারল বাংলাদেশ, বিদায়ের শঙ্কা      
দেশজুড়ে
কয়রায় স্বাস্থ্যসেবার আস্থা এখন ‘ভাসমান হাসপাতাল’
মো. রিয়াজ উদ্দীন, খুলনা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ পিএম
কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ ভাসমান হাসপাতাল। ছবি: প্রতিনিধি

কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ ভাসমান হাসপাতাল। ছবি: প্রতিনিধি

শহর থেকে ১৩১ কিলোমিটার দক্ষিণে খুলনার কয়রা উপজেলার প্রত্যন্ত মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন। সুন্দরবনঘেঁষা এই এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ অনেকটা স্বপ্নের মতো। তবে সেই বাস্তবতাই বদলে দিয়েছে নয়নি গ্রামে নোঙর করা ‘কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ’ ভাসমান হাসপাতাল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল হতে না হতেই হাসপাতালের সামনে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইন। ফ্রেন্ডশিপ এনজিওর তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা স্বস্তির নাম হয়ে উঠেছে।

রোগীদের অনেকে জানান, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এখানকার চিকিৎসার মান ভালো। পাশাপাশি চিকিৎসা ও ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা হাসপাতালে আসছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও পাচ্ছেন তারা।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি দাঁত ও চোখের চিকিৎসা এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ছোটখাটো অস্ত্রোপচারও করা হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিদিন গড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ জন রোগী এখান থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

গত ১৫ জুলাই মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের নয়নি গ্রামে হাসপাতালটি নোঙর করা হয়। এখানে একজন মেডিকেল অফিসার, দুজন সহকারী, চারজন টেকনোলজিস্ট ও একজন ফার্মাসিস্টসহ মোট ২২ জন কর্মী কাজ করছেন।

ফ্রেন্ডশিপের প্রজেক্ট ম্যানেজার ফিরোজ আক্তার বলেন, হাসপাতালটি এখানে তিন থেকে চার মাস অবস্থান করবে। এ সময় কয়রা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে যারা সেবা নিতে আসবেন, তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।

সুন্দরবনবেষ্টিত কয়রার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন সুন্দরবন ইকো-রিজিলিয়েন্স ইনিশিয়েটিভের প্রধান সমন্বয়ক ও সাংবাদিক তারিক লিটু।

তিনি বলেন, “সুন্দরবনবেষ্টিত কয়রার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। তাই সুবিধাবঞ্চিত খেটে খাওয়া মানুষের কথা বিবেচনা করে হাসপাতালটির মাধ্যমে সারা বছর চিকিৎসাসেবা দেওয়া গেলে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঝুঁকিও কমে যেত।”

মহেশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী বলেন, উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য নিয়মিত চিকিৎসাসেবা সহজ নয়। এ অবস্থায় কয়েক মাসের জন্য হলেও ভাসমান হাসপাতালের সেবা তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হাসপাতালটি আরও কিছুদিন এলাকায় থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের আরও মানুষ চিকিৎসাসেবার আওতায় আসবেন বলে আশা করছেন তিনি।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close