আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী উপজেলা জীবননগরে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ প্রস্তুতি। এ বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২৪টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা।
রোবাবার (১১অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবার) মহাষষ্ঠী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূজা শুরু হয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রশাসনিকভাবে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সরজমিনে দেখা যায়, খড়, কাঠ ও সুতা দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করছেন কারিগররা। কেউ মাটি দিয়ে দেবীর আকৃতি গড়ে তুলছেন, আবার কেউ নিপুণ হাতে আঁকছেন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিকের রূপ। মাটির কাজ শেষ পর্যায়ে, রং তুলির আঁচড়ে শুরু হয়েছে রঙের কাজ। রং তুলির আঁচড়ে জীবন্ত হয়ে উঠছে প্রতিমা। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও সহযোগিতা করছেন প্রতিমা তৈরির কাজে। সাজসজ্জায় এসেছে বৈচিত্র্য। চলছে আলোক সজ্জা ও তোরণ নির্মাণ। ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শাস্ত্রমতে, এবার কৈলাশ থেকে দেবীদূর্গা মত্যলোকে আসবেন ঘোটকে। পুত্র কন্যা নিয়ে ফিরবেন নৌকায়। দেবীর আগমনকে ঘিরে তাই ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ উদ্দীপনা।
অন্যদিকে পূজায় কেনা কেটায় ব্যস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পোশাক, উপহার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে বাজারে ভিড় করছেন ভক্তরা। তবে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা দিন যতো ঘনিয়ে আসবে ভক্তদের কেনাকাটা আরও বাড়বে।
প্রতিমা শিল্পী শ্রীকান্ত সরকার বলেন, ‘আমার বাড়ি ও স্থানীয় একটি মন্দিরে মোট ১৫টি প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। এখানে আটজন শ্রমিক কাজ করছে। প্রতিটি প্রতিমা ৩০ হাজার থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হবে। গতবারের তুলনায় এ বছর চাহিদা বেশি।’
প্রতিমা শিল্পী শ্রাবণ শীল জানান, মাটি, রং, সুতা সব কিছুর দাম বেড়েছে, চাহিদা কমেনি তবে মজুরির দাম বাড়েনি। বাপ দাদাদের থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছি। কাজ-কর্ম না থাকায় অনেকে পেশা বদল করছে আবার অনেক দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে গেছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি পেশাকে টিকিয়ে রাখতে বিশেষ ভাতার ব্যবস্তা করা।’
জীবননগর পূজা উৎযাপন কমিটির সদস্য সচিব সুশান্ত কুমার বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের জন্য প্রশাসন আমাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। প্রতিটি প্রতিমা তৈরির স্থান আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করছি। আশা করি, সবার সহযোগিতায় সুন্দরভাবে দুর্গোৎসব উদযাপন সম্ভব হবে।’
এ দিকে পূজা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান, মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির স্থানে আমরা টহল জোরদার করেছি। পাশাপাশি ফুটপেট্রোলও অব্যাহত আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি জানান, পূজা উদযাপন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা বাহিনী সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে বলা হয়েছে। আশা করি শান্তিপূর্ণভাবে সৌহার্দের মধ্য দিয়ে দূর্গা উৎসব সম্পন্ন হবে।
কেকে/এআই