নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় মোট প্রায় ৩৫৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা রয়েছে। ফলে বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত গ্রামীণ জনপদের এ সড়কগুলো পাকা না হওয়ায় একদিকে যেমন চলাচল ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহনে এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে কাদা এবং শুস্ক মৌসুমে ধুলো-বালিতে অতিষ্ট হয়ে ওঠছে জনজীবন। এতে করে থমকে আছে এলাকাবাসীর জীবন মান উন্নয়ন।
তবে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর ভাষ্যমতে, গুরুত্বপুর্ণ কয়েকটি সড়ক পাকাকরণে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। একনেক সভায় অনুমোদন হলেই বরাদ্দ পাবার পর কাজ শুরু হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মোট সড়ক রয়েছে ৩৫৮.৫৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৭৬.৯৬ কিলোমিটার সড়ক পাকা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১.৭৩ কিলোমিটার হেরিং বোন বোন্ড, ৪.৯৯ কিলোমিটার কংক্রিট, ২.৪২ কিলোমিটার ইউনিব্লক এবং ১৩২.৪৭ কিলোমিটার কাঁচা মাটির সড়ক রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আত্রাই-সিংড়া পাকা সড়কের ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজার থেকে বিশা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক কাঁচা রয়েছে। এ ছাড়া পতিসর-সমসপাড়া পাকা সড়কের হিঙ্গলকান্দি বাজার মোড় থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার, ছোটডাঙ্গা ব্রীজের উত্তর পাশ থেকে ঝনঝনিয়া পর্যন্ত প্রায় পৌনে দুই কিলোমিটার, ছোটডাঙ্গা বাজার থেকে তারাটিয়া পর্যন্ত প্রায় সোয়া কিলোমিটার, হাটকালুপাড়া জামালের বাড়ি থেকে চকশিমলা উত্তরপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার, চকবাজার থেকে গাঙ্গের ধার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এবং পারকাসুন্দা-বিলগলিয়া সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ১৩৩ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা রয়েছে।
বিশা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দীন শেখ জানান, গত ৪০ বছর ধরে শুনছি ভাঙ্গাজাঙ্গাল থেকে বিশা স্কুল পর্যন্ত মাটির এ সড়কটি পাকা হবে। অথচ এখন পর্যন্ত পাকা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে অন্তত ৫-৭টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল ও মালামাল পরিবহন করেন। বর্ষা মৌসুম আসলে সামান্য বৃষ্টিতে সড়কটি হাঁটু কাদায় পরিণত হয়। ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী ও অসুস্থ রোগীদের চলাচল এবং কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।’
তাই এলাকাবাসীর জীবন মান উন্নয়নে এবং জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সড়কটি পাকা করণের দাবি জানান জামাল উদ্দীন শেখ।
লালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মকলেছুর রহমান জানান, হিঙ্গলকান্দি মোড় থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মোড় থেকে আধা কিলোমিটার পাকা হয়েছে। এরপর থেকে কাঁচা সড়ক।
তিনি বলেন, ‘সড়কটি বেশ কয়েকবার পাকা করণের জন্য এলাকাবাসী উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত পাকা হয়নি।’
আত্রাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নিতীষ কুমার বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ এবং জনদুর্ভোগ বিবেচনায় উপজেলার বেশ কয়েকটি রাস্তা পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প আকারে পাঠানো হয়েছে। একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন হলেই বরাদ্দ পাবার পর কাজ শুরু করা হবে।’
তবে পর্যায়ক্রমে সবগুলো সড়কই পাকাকরণ করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
কেকে/এআই