গাছে গাছে ঝুলছিল ফলন্ত কলার ছড়া। ঠিক সেই মুহূর্তেই রাতের আঁধারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে কেটে সাবাড় করা হয়েছে প্রায় এক হাজার ফলন্ত কলাগাছ। অমানবিক ও নৃশংস এই তাণ্ডবে সর্বস্বান্ত হয়ে পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে কৃষক জয়দার মিয়ার। এই তাণ্ডবের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার ৩ নম্বর দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক জয়দার শেখ নিজ বাড়ির পূর্ব পাশে গোরস্থান সংলগ্ন মধুমতি নদীর পার ঘেঁষে ১০০ শতক জমি লিজ ও বর্গা নিয়ে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে এই কলাবাগানটি গড়ে তুলেছিলেন। বাগানটি তৈরিতে এনজিও এবং বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তিনি ৩-৪ লাখ টাকা ঋণ নেন। কলাগাছগুলোতে ইতোমধ্যেই কলার কান ও ছড়া আসা শুরু হয়েছিল। হঠাৎ রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কলাগাছগুলো কেটে পুরো বাগানটি ধ্বংস করে দেয়।
এতে তার আনুমানিক ৫-৬ লাখ টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জয়দার শেখ।
তিনি বলেন, “এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবং দিনরাত ঘাম ঝরিয়ে এই বাগানটি দাঁড় করিয়েছিলাম। আর কিছুদিন গেলেই কলা বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করার কথা ছিল। কিন্তু শত্রুতাবশত রাতের আঁধারে আমার সব শেষ করে দিল। আমি এখন কী দিয়ে এনজিওর কিস্তি দেব আর পরিবার নিয়ে কী খাব, বুঝতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে এই বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।”
দীঘা ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য আলম নবী বলেন, ‘শত্রুতার জেরে কৃষক জয়দার শেখের প্রায় ১২০০-১৫০০ ফলন্ত কলাগাছ রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলেছে। এনজিও থেকে ৩-৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বাগান করায় ওই কৃষক ও তার পরিবার এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব।’’
এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িতদের সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসন, থানা ও কৃষি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
ঘটনাটি প্রথম প্রত্যক্ষ করা প্রতিবেশী খায়রুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিনের মতোই নদীতে নৌকায় কাজ করতে বের হয়ে হঠাৎ দেখতে পাই একটি গাছ রাস্তার ওপর কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে কাছে গিয়ে দেখি পুরো বাগান কে বা কারা কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে গাছের মালিককে খবর দিই। লিজ নিয়ে কষ্টার্জিত অর্থে তৈরি বাগানটি নিমেষে ধ্বংস করে দেওয়া এক ন্যক্কারজনক কাজ। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
বিষয়টি নিয়ে মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান শিলু বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। খবর পাওয়ার পর আমাদের মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ফলন্ত গাছগুলো কেটে ফেলায় কৃষক ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে এবং সরকারি কোনো প্রণোদনা বা পুনর্বাসন সহায়তা এলে ক্ষতিগ্রস্ত এই কৃষককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে।”
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম শামীম আহমেদ বলেন, ‘কলাগাছ কাটার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
কেকে/এমএ