পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আগাছানাশক প্রয়োগ করে এক কৃষকের ৫৪ শতক জমির ধান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী কৃষক আবুল হোসেনের ছেলে আশরাফ আলী। অভিযোগে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ দর্জিপাড়ার বাসিন্দা হাসিবুল ইসলাম (৩৮), হরমুজ আলী (৪০) ও তাদের বাবা আব্দুল হককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশরাফ আলী ও তার বাবা আবুল হোসেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিমনজোত গ্রামের বাসিন্দা। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর তাদের ভোগদখলে থাকা ৫৪ শতক জমির ধানখেতে ‘রাউন্ডআপ’ নামের আগাছানাশক প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে জমিতে গিয়ে ধান নষ্ট হওয়ার বিষয়টি দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদকে ঘটনাটি জানান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দর্জিপাড়া মৌজার জমি নিয়ে গত আট থেকে নয় মাস ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং তাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম দাবি করেন, ভুক্তভোগীর জমির পাশে তার নিজের জমি রয়েছে। ধানখেত দেখতে এসে তিনি হাসিবুল ও হরমুজকে স্প্রে মেশিন নিয়ে ওই জমির দিকে যেতে দেখেছেন।
এ ছাড়া, জমিতে হালচাষের কাজ করেন এমন আরেক ব্যক্তি দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে জানতে সেদিন সন্ধ্যায় তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারে হাসিবুলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। এ সময় অভিযুক্তরা ফসল নষ্ট করার কথা স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে আরও জমির ফসল ও চা-বাগান নষ্ট করার হুমকি দেন বলে তাঁর অভিযোগ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ধারদেনা করে তিনি জমিতে ধান চাষ করেছেন। তার অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে এমন জমির পাশাপাশি বিরোধ নেই, এমন জমির ধানও নষ্ট করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।
আবুল হোসেনের ছেলে আশরাফ আলী বলেন, তার বাবা ও দুই ভাইয়ের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন এই জমির চাষাবাদ। ধানখেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও বিচার চেয়েছেন তারা। এর আগেও অভিযুক্ত পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানুষের ফসল নষ্ট ও জমি দখলের অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের মা। তিনি বলেন, তারা এ কাজ করেননি; বরং অন্যরা ধান নষ্ট করে তাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত হাসিবুল ও হরমুজের বাড়িতে গিয়ে এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সে সময় সেখানে স্থানীয় অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে।
এদিকে, অভিযুক্ত হাসিবুল ইসলাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এর আগেও জমি দখল ও ফসল নষ্টের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এ-সংক্রান্ত মামলা ও অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
কেকে/সাশ