গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রয়োজনীয় তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই মেসার্স নয়ন ট্রেডার্সের নামে ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে ইউনিয়নের কৃষকদের সার সংগ্রহে ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া না হলে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের সার সংগ্রহে বাড়তি দূরত্ব পাড়ি দিতে হবে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ বাড়বে, যা প্রান্তিক কৃষকদের চাষাবাদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কৃষকদের অভিযোগ, সচিবালয়কেন্দ্রিক একটি দালাল চক্র আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে মেসার্স নয়ন ট্রেডার্সের নামে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তাদের দাবি, প্রস্তাবিত ডিলার বর্তমানে ওই এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। তার নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা সার সংরক্ষণের উপযোগী গুদামও নেই।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে পৈতৃক ভিটা হারিয়ে সেই ডিলার সাত ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাই পরিবারসহ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় চলে যান। বাকি চার ভাই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বসবাস করছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারশিপের আবেদনে গুদাম হিসেবে যে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে অন্য এক ব্যক্তির পানের দোকান রয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত গুদামটি এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত, যা ইউনিয়নের উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। সেখানে ডিলার নিয়োগ করা হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের সার সংগ্রহে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে তাদের আশঙ্কা।
ইউনিয়নের স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যও প্রস্তাবিত ডিলারের বর্তমান বসবাসের বিষয়ে একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। তার ভাষ্য, ডিলার ওই এলাকার ভোটার হলেও বর্তমানে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, উপজেলা পর্যায় থেকে যাচাই-বাছাইয়ের পর ওই ডিলারের নাম বাদ দিয়ে জেলায় পাঠানো হয়েছিল। এরপরও কীভাবে তার নামে ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
সারা দেশে ৪ হাজার ৯৩১টি প্রস্তাবিত ডিলারশিপের বিপরীতে ৪৬ হাজার ৯৫৫টি আবেদন জমা পড়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি ডিলারশিপের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৯ দশমিক ৫২টি আবেদন রয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
কেকে/এআই