চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে পাঠিয়ালছড়ি খালের ওপর ১২ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পরও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। সর্বশেষ গত জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখন আবার এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাহি নুর চা-বাগানসংলগ্ন সাহেবের রাস্তার এই সেতু নির্মাণে ধীরগতির জন্য ঠিকাদারের গাফিলতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বক্তব্যের সঙ্গে তার কার্যালয়ের নথির হিসাবেও গরমিল পাওয়া গেছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বি.এল. করপোরেশন। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার ৯২১ টাকা। বরাদ্দ রয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭৪ টাকা। পিআইও কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৫০ শতাংশ। ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। দৃশ্যমান কাজের অগ্রগতি আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু নাছেরের দাবি, কাজের ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।
আবু নাছের বলেন, ‘সম্প্রতি ব্রিজের গার্ডার ঢালাই হয়েছে। আমাদের হিসাবমতে ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে ব্রিজের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে যাবে।’
তবে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে পিআইও কার্যালয়ের নথিতে উল্লেখ করা ৫০ শতাংশ অগ্রগতির হিসাবের মিল পাওয়া যায়নি। একই দপ্তরের নথি ও কর্মকর্তার বক্তব্যে এমন পার্থক্যের কারণও স্পষ্ট নয়।
মৌখিক চুক্তিতে কাজ করছেন ইউপি সদস্য
সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বি.এল. করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী আজম বুখারী বলেন, মৌখিক চুক্তিতে তিনি অন্য একজনকে কাজটি দিয়েছেন। আজম বুখারী বলেন, ‘কাজটি আমি করছি না। আজম মেম্বার নামে একজনকে করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ বর্তমানে কাজটি করছেন নারায়ণহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জহির উদ্দিন আজম। তিনি বলেন, দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষকে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা জবিউল হোসেন বলেন, একটি সেতু নির্মাণে এত সময় লাগায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে কাজ শেষ করতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। গত জুনে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পরও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া এবং অগ্রগতির হিসাব নিয়ে অসংগতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জবাবদিহি চান স্থানীয় লোকজন। তারা আর সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করে চলাচলের উপযোগী করার দাবী জানিয়েছেন।
কেকে/সাশ