পটুয়াখালীর বাউফলে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূ ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার রিমা আক্তার বর্তমানে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
রিমা আক্তার উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকার আবদুস সালাম মৃধার মেয়ে। পাঁচ বছর আগে আবুবকরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে, যার নাম ফাহমিদা।
রিমার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর চাকরির জন্য তার পরিবারের কাছে যৌতুকের টাকা দাবি করা হতো। এ পর্যন্ত প্রথমে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং পরে আরও ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট রিমাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার শিশু মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় স্বামী আবুবকর, শ্বশুর খলিল মাওলানা, ভাশুর ফয়জুল ও নাসিমা বেগমের নাম উল্লেখ করেছেন রিমা।
অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি। তাঁদের বাড়িতেও পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত খলিল মাওলানার বেয়াই আনিচ খাঁ জানান, এর আগে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে রিমা ও তাঁর মেয়েকে মারধরের কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
স্থানীয় সালিশে যুক্ত ধানদী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ জানান, এর আগেও নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে ওই নারী তাঁর কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পরে তিনি বিষয়টি মীমাংসা করেন। ওই নারী স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, যা পরে প্রত্যাহার করা হয় বলেও জানান তিনি। এরপর আবারও যৌতুকের টাকা নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে থানা-পুলিশের সহায়তায় রিমা চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
কেকে/সাশ