মাগুরার শালিখা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের শালিখা প্রতিনিধি জসীম উদ্দীন। আহত অবস্থায় তিনি শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
আহত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন জানান, দলীয় বিরোধের জেরে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এবং কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী ওয়াদুদ বিশ্বাসের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়।
জসীম উদ্দীনের অভিযোগ, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে মোস্তাক ও তার সমর্থকেরা তার ওপর হামলা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা। তাদের মতে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। তার দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গ্রুপের পক্ষ হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় জসীম উদ্দীনের ওপর হামলা হয়েছে।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/সাশ