রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয় বলে জানিয়েছে ওয়াচার্স নিউজ।
তবে ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৩৫ কিলোমিটার গভীরে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্রও (ইএমএসসি) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বলে জানিয়েছে। তবে সংস্থাটির হিসাবে, এর উৎপত্তিস্থল ছিল ১৩০ কিলোমিটার গভীরে।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল কামচাটকা অঞ্চলের কয়েকটি শহর থেকে বিভিন্ন দূরত্বে ছিল। এর মধ্যে ওজেরনোভস্কি শহর থেকে ৭৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পেত্রোপাভলভস্ক-কামচাটস্কি শহর থেকে ১৫১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল উৎপত্তিস্থল।
এ ছাড়া এলিজোভো শহর থেকে ১৫৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ক্লিউচি শহর থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ মাঝারি মাত্রার এবং আরও ২ লাখ ১৪ হাজার মানুষ হালকা কম্পন অনুভব করেছেন।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে সুনামির কোনো আশঙ্কা পাওয়া যায়নি। সমন্বিত বিশ্ব সময় অনুযায়ী, রাত ৩টা ৪৩ মিনিটে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।
ভূমিকম্পের কারণে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বিবেচনায় সবুজ সতর্কতা জারি করেছে ইউএসজিএস। সংস্থাটির হিসাবে, এ ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ এমন ভবনে বসবাস করেন, যেগুলো ভূমিকম্পের কম্পন সহ্য করতে সক্ষম। তবে মাটির ইটের ব্লক ও সাধারণ ইট দিয়ে তৈরি কিছু ভবন তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে।
সংস্থাটির ধারণা, ভূমিকম্পের ফলে মাটি তরল হয়ে যাওয়ার ঘটনা বা ‘তরলীকরণে’ বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে ওই অঞ্চলে জনবসতি কম, কোথাও কোথাও একেবারেই নেই। এ ছাড়া ভূমিধসের আশঙ্কাও কম বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস। সম্ভাব্য ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমন এলাকাও সীমিত এবং সেখানে মানুষের বসবাস কম।
কেকে/ এমএস