সংগঠনের বয়স ১৪ বছর, আর দুর্গাপ্রতিমার উচ্চতাও ১৪ ফুট। বয়স ও উচ্চতার এই ব্যতিক্রমী সমন্বয়ে এবারের দুর্গাপূজায় বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের উদ্যোগী যুব সংঘ (উযুস)। আয়োজকদের দাবি, তাদের মণ্ডপেই তৈরি করা হয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় দুর্গাপ্রতিমা।
প্রতিমাটি তৈরিতে মাটি, খড়, বাঁশ, কাঠ ও পাটের রশি ব্যবহার করা হয়েছে। এর নির্মাণকাজে টানা ১২ দিন সময় দিয়েছেন নেত্রকোণার কারিগর তপন পাল। প্রায় ১৮ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পী ফুফার হাত ধরে এ পেশায় আসেন। তার কাছে প্রতিমা নির্মাণ কেবল জীবিকা নয়, বরং পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা।
তপন পাল বলেন, প্রতিমা তৈরিতে ধৈর্য ও মনোযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ধাপে যত্ন নিয়ে কাজ করতে হয়। প্রতিমার আকার বড় হলে স্বাভাবিকভাবেই পরিশ্রমও বেড়ে যায়।
উযুসের সভাপতি সুদীপ্ত সাহা অমিত জানান, প্রতিবছরই নতুন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। সংগঠনের ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার ১৪ ফুট উচ্চতার প্রতিমা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জাতেও রাখা হয়েছে বিশেষ বৈচিত্র্য।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজয় গৌড় বলেন, বড় প্রতিমাকে কেন্দ্র করে এবারের পূজার আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১৩০ সদস্যের সংগঠনটি দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করেছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে খিচুড়ি ও প্রসাদের ব্যবস্থা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৪ ফুট উচ্চতার প্রতিমার খবর ছড়িয়ে পড়ায় মণ্ডপটি ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে আশপাশের এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বণিক জানান, ফেসবুকে প্রতিমার খবর প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসতে শুরু করেছেন।
সংগঠনের ১৪ বছরের পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া এই আয়োজন দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। এখন পূজার দিনগুলোতে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে মণ্ডপ কতটা জমজমাট হয়ে ওঠে, সেদিকেই তাঁদের নজর।
কেকে/সাশ