রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ভূমিসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হামিদুল ইসলাম। ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার তদারকি, অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা, সার ও বীজের বাজার তদারকি, ওষুধ প্রশাসন, জ্বালানি তেলের পাম্প এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, এসব বিষয়ে প্রতি মাসে গড়ে ২২-২৫টি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
গেল ২৬ এপ্রিল গঙ্গাচড়ায় যোগ দেন মো. হামিদুল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, ভূমি অফিসের কার্যক্রম গতিশীল করা এবং সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম প্রতিরোধ ও জনস্বার্থ রক্ষায় তদারকিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
উপজেলা প্রশাসনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজারে পণ্যের মূল্য ও বিক্রয় পরিস্থিতি তদারকি, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, সার ও বীজ বিক্রিতে অনিয়ম রোধ, ওষুধের দোকান ও জ্বালানি তেলের পাম্প পরিদর্শন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের আইন মেনে চলতে সচেতন করা হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভূমিসেবা সহজ করা, ভূমি অফিসে হয়রানি কমানো এবং জমিজমাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রত্যাশা। একই সঙ্গে বাজার তদারকি ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
গজঘণ্টা ইউনিয়নের ছালাপাক গ্রামের বাসিন্দা চাঁন মিয়া (৫০) বলেন, “ভূমি অফিসের সেবা সাধারণ মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, জমিজমাসংক্রান্ত কাজে যেন সহজে সেবা পাওয়া যায় এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়।”
কোলকোন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোলকোন্দ এলাকার বাসিন্দা আলতাব মিয়া (৬৫) বলেন, “সাধারণ মানুষ যেন ভূমিসংক্রান্ত কাজে সহজে সমাধান পান, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। ভূমি অফিসের সেবা আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত হলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন।”
এ বিষয়ে মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, “ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের হয়রানিমুক্ত, স্বচ্ছ ও দ্রুত সেবা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। ভূমিসংক্রান্ত সমস্যাগুলো আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করছি। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “জনস্বার্থ রক্ষা ও বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে প্রতি মাসে গড়ে ২২-২৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাজার তদারকি, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা, সার ও বীজ বিক্রিতে অনিয়ম রোধ, ওষুধ প্রশাসন, জ্বালানি তেলের পাম্প এবং ভোক্তা অধিকারসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতা নিয়ে ভূমিসেবার মান উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
কেকে/এমএ