কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলার সীমানায় নরসুন্দা নদীর বাসুরচর এলাকা থেকে আরিফ মিয়া ওরফে সালমান (২২) নামের নিখোঁজ যুবকের হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে নদীর পাড় থেকে এসব হাড়-কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
প্রায় পাঁচ মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সালমান হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের মো. ফজলুর রহমানের ছেলে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর তাঁর হাড়-কঙ্কাল উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বাড়ি থেকে বের হন সালমান। এরপর উপজেলার ইলিছ প্রধান বাজারের মোড়ে তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, প্রতিদিনের মতো কিছু সময় বাইরে কাটিয়ে রাতে বাড়ি ফিরবেন তিনি। কিন্তু রাত পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে ফেরেননি সালমান।
এরপর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের পাশাপাশি সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করতে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ পান তারা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পরিবারের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কোথাও সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন স্বজনেরা।
ছেলের সন্ধান চেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন হোসেনপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা মো. ফজলুর রহমান। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের আদালতে একটি মামলা করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় কিশোরগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে শাকিব (১৮) ও মাফি (১৪) নামের দুইজনকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাদের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে শুক্রবার পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলার সীমানার বাসুরচর এলাকায় নরসুন্দা নদীর পাড় থেকে সালমানের হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “শুক্রবার দুপুরে নরসুন্দা নদী থেকে নিখোঁজ ওই যুবকের হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।”
কেকে/এমএ