প্যাঁচা পাখিদের মধ্যে একজনের নাম বোঁচা। সেই বোঁচার বউ নাচাকে নিয়ে পালিয়েছে পটলা নামের অন্য
আরেক প্যাঁচা পাখি। বোঁচা কোথাও তার বউ নাচাকে খুঁজে না পেয়ে পাখিদের রাজা ঈগলের রাজসভায় বিচার দিয়েছে।
বোঁচার মুখে সব ঘটনা শুনে রাগে ঈগলের চোখ দুটো লাল হয়ে গেল। আগুন চটকাচ্ছে যেনো ঈগলের দুটি চোখ থেকে। সে রাগে গড়গড় করতে করতে গর্জন ছুড়ে ডাক দিলো অন্য সব পাখিদের। ঈগলের রাগান্বিত গর্জন করা ডাক শুনে ভয়ে ভীতু হয়ে মুহূর্তে যে যেখানে ছিল কাক চিল, শকুন ফিঙে রাজা, দোয়েল, কোয়েল ময়না, টুনটুনি বুলবুলি শালিকসহ অন্য অন্য সব পাখি এসে হাজির হলো ঈগলের রাজসভায়।
ভয়ে একেবারে সব জড়োসড়ো অবস্থা। না জানি আজ কি হয়! সবাই মনেমনে ভাবছে ভুলে কোনো অপরাধ করে ফেললাম কিনা। রাজা না জানি কোন শাস্তি দেয়! ঈগল বলল আমি তোমাদের ডেকেছি কেনো কেউ জানো? সকলে বলল, না মহারাজা। বলুন কি এজন্য ডেকেছেন? ঈগল বলল, এজন্য যে, বেটা পটলা প্যাঁচা নাকি বোচার বউয়ের সঙ্গে পরকীয়া করে ওর বউকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। সকলে যাও বন-জঙ্গল ঝোপঝাড় গাছপালা খালবিল এমনকি ইঁদুরের গর্তে যেখানেই ওরা লুকিয়ে থাকুক তন্নতন্ন করে খুঁজে বের করে ওদের হাত পা বেঁধে আমার সামনে হাজির করো। ওর এতবড় স্পর্ধা। আমার রাজ্যে কিনা পরকীয়ার মতো এমন জঘন্য কাজ করে। আজ ওর এমন কঠিন শাস্তি দেব।
যাতে অন্য কোনো পাখিরা এমন কাজ করতে সাহস না পাই। আমি চাইনে আমার পাখিদের রাজ্যে মানুষের মতো পরকীয়ার মতো ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ুক। শুনে মন্ত্রী চিল বলল, মহারাজা আপনি কোনো চিন্তা করবেন না আমি এখনি ঐ দুষ্টু চরিত্র হীন বেটা পটলা আর নষ্টা বেটি নাচাকে আপনার সামনে হাজির করছি। রাজা ঈগল বলল, ঠিক আছে এই সেনাপতি কাক, শকুন আর তোমরা সবাই চিলের সঙ্গে যাও। সবাই বলল, ঠিক আছে মহারাজা আমরা এখুনি যাচ্ছি। সব পাখিরা আগান বাগান বন জঙ্গল ঝোপঝাড় খালবিল তন্নতন্ন করে খুঁজতে লাগল।
টুনটুনি হঠাৎ দেখল পটলা নাচার সঙ্গে ছোট্ট ডুমুর গাছের এক ঝোপের মধ্যে রয়েছে। দ্রুত সংবাদটা কাক চিল শকুনকে দিল। চিল ফিঙে রাজাকে বলল যাও ওদের ঝোপের মধ্য থেকে বের করে নিয়ে এসো। যেই কথা সেই কাজ। ফিঙে রাজা ঠোকরাতে ঠোকরাতে ওদের বের করে আনল। চিল ছোঁ মেরে ধরে ওদের হাত পা বেঁধে মহারাজা ঈগলের সামনে হাজির করল রাজসভায়। প্যাঁচা পটলা আর বোঁচার বউ নাচার
তো ভয়ে প্রাণ যায় যায় ভাব। ঈগল বলল : পটলা তুই যে অপরাধ করেছিস তা- ক্ষমার যোগ্য নয়। বল তোকে কি শাস্তি দেব? পটলা বললো, মহারাজা আমি মস্ত বড় ভুল করেছি এবারের মতো ক্ষমা করে দিন। আর পটলার বউ নাচা বলল, মহারাজা বোঁচার বাসায় এসি নেই। এত বলি তবু একটা এসির ব্যবস্থা করে না। আমি মোটে গরম সৈহ্য করতে পারিনে
পটলার বাসায় এসি আছে তাই..। ঈগল বলল, বোঁচা, বাসায় এসি লাগাতে পারিসনে? প্যাঁচা বোঁচা বললো, মহারাজা এসির লোভ লাগিয়ে খোঁচাটা দেছে ঐ পটলা। তাছাড়া এসি লাগায় কি হবে বলুন। রাতদিন চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তো তেমন বিদ্যুৎই থাকে না। বিদ্যুৎ যায় আর আসে। একবার গেলে আর আসার তো কোনো নামই গন্ধই থাকে না। আবার দেখেছেন বিল আসে আকাশচুম্বী।
ঈগল বললো, কথাটা তুই মন্দ বলিসনি। বিদ্যুৎ যেরকম ভোগান্তি দিচ্ছে যা- সৈহ্য করার মতো না। তারপর প্যাঁচা পটলা আর নাচার দিকে ঈগল তাকিয়ে বললো, যাহোক তুরা যেটা করেছিস। তোদের ক্ষমা করতে পারি শুধুমাত্র একটা শর্তে।
আর তা-হলো ইদানীং মশা মাছি ইঁদুরের উপদ্রব খুব বেড়েছে। যেজন্য মানুষের ডায়রিয়া, টাইফয়েড, প্লেগ, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু জ্বর হয়ে বহু শিশু মারা যাচ্ছে। সব ঝোপঝাড় ময়লা জমে থাকা জল সব পরিষ্কার করবি।
যাতে মানুষ সমাজ সুস্থ থাকে। প্যাঁচা পটলা আর নাচা বলল, ঠিক আছে মহারাজা আপনার সব হুকুম পালন করা হবে।। কাক বলল, ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনা ওসব আমি সাফ করে ফেলব মহারাজা। বাদুড় হেসে বলল, মহারাজা আর ইঁদুর বিনাশ করার দায়িত্বটা আমরা নিলাম। আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। শুনে ঈগল হেসে বলল তাহলে তো ভালোই হলো। এখন থেকে তোমরা তোমাদের যার যার কাজ সেগুলো নিজেরা পালন কর কেমন। আজকের মতো রাজসভা এখানেই শেষ করা হলো।
কেকে/সাশ