এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ চলছে। সবাই আনন্দের সঙ্গে ফরম ফিলাপের টাকা জমা দিচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের মনে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। আর কয়েক মাস পরেই পরীক্ষা। তারপর যাবে কলেজে। জীবনের নতুন সিঁড়িতে পা রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রায় সবাই ফরম ফিলাপ করেছে। শুধু সামিয়ুল এখনো ফরম ফিলাপ করেনি। সামিয়ুলের দশম শ্রেণিতে রোল নম্বর এক। একজন মেধাবী ছাত্র। বিদ্যালয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। অথচ সেই সামিয়ুলই বিদ্যালয়ে আসছে না। এখনো ফরম ফিলাপও করেনি।
ফরম ফিলাপের আর মাত্র দুই দিন বাকি। রাহুল তার বন্ধু শাওনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলল। দুই বন্ধু সিদ্ধান্ত নিল, তারা সামিয়ুলদের বাড়িতে যাবে।
বিকেলবেলা ফুটবল খেলা শেষে শাওন ও রাহুল সামিয়ুলদের বাড়িতে গেল। সামিয়ুল বাড়িতেই ছিল।
রাহুল বলল, সামিয়ুল, ফরম ফিলাপের আর মাত্র দুই দিন বাকি। তুই স্কুলেও যাচ্ছিস না, ফরম ফিলাপও করছিস না কেন?
সামিয়ুল বলল, আমার মনে হয়, ফরম ফিলাপ করা হবে না।
শাওন অবাক হয়ে বলল, কেন?
সামিয়ুল বলল, দেখ, আমার বাবা জীবিত নেই। সংসারটা মায়ের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। মায়ের সামান্য বেতনে সংসার চলে। একসঙ্গে ফরম ফিলাপের এত টাকা মা জোগাড় করতে পারেননি। এখন আমি কীভাবে ফরম ফিলাপ করব?
কথাগুলো বলতে বলতে সামিয়ুল কেঁদে দিল। রাহুল ও শাওন তাকে সান্ত্বনা দিল।
রাহুল বলল, এ সামান্য ব্যাপার নিয়ে চিন্তা করিস না। আর তোর সমস্যা কখনো আমাদের বলিসনি কেন?
সামিয়ুল মাথা নিচু করে রইল।
শাওন বলল, তুই আগামীকাল থেকে স্কুলে আসবি। তারপর আমরা তোর এই সমস্যার একটা ব্যবস্থা করছি।
কিন্তু পরদিনও সামিয়ুল স্কুলে এল না। রাহুল ক্লাসে সব ছাত্রছাত্রীকে সামিয়ুলের সমস্যার কথা জানাল। সবাই বলল, এটা কোনো সমস্যাই না। আমরা ক্লাসে নব্বইজন বন্ধু। আমরা সবাই মিলে সামিয়ুলের ফরম ফিলাপের টাকা জোগাড় করব।
সবাই সিদ্ধান্ত নিল, সেদিন তারা কেউ নাশতা করবে না। নাশতার টাকা শাওনের কাছে জমা দেবে। বন্ধুরা সবাই যার যার নাশতার টাকা জমা দিল। তাতে তিন হাজার কয়েকশ টাকা জমা হলো। ফরম ফিলাপ করতে লাগবে দুই হাজার ছয়শ টাকা।
সবাই মিলে সেই টাকা অফিসে জমা দিয়ে সামিয়ুলের ফরম ফিলাপের ব্যবস্থা করল। নিজেদের বন্ধুর শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা দূর করতে পেরে সবার চোখেমুখে বিজয়ের আনন্দ ফুটে উঠল।
বিষয়টি শিক্ষকদের কানেও পৌঁছে গেল। সব স্যার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের এই মহৎ কাজের জন্য অনেক প্রশংসা করলেন।
পরদিন সামিয়ুল স্কুলে এল। তার ফরম ফিলাপ হয়ে গেছে জেনে সে আনন্দে কেঁদে ফেলল। বন্ধুরা সবাই তাকে ঘিরে আনন্দ করল। তারা বলল, আমরা তোর ভাইবোন। যে কোনো সমস্যার কথা আমাদের জানাবি। আমরা তোকে সাহায্য করব।
ফরম ফিলাপের টাকা জমা দেওয়ার পর যে পাঁচশ টাকা বাকি ছিল, বন্ধুরা সেই টাকাও সামিয়ুলকে দিয়ে বলল, এই টাকা দিয়ে খাতা-কলম কিনে নিবি।
বন্ধুদের মহানুভবতায় সামিয়ুল খুব খুশি হলো। সে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাল। বন্ধুদের এমন ভালোবাসা ও সহযোগিতা সামিয়ুলের মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে দিল।
কেকে/সাশ