জুলাই জাতীয় সনদ ঘিরে এক বছর আগে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এক বছর পর তা রূপ নিয়েছে অনিশ্চয়তায়। সনদে স্বাক্ষরের পর পেরিয়েছে এক বছর, কিন্তু সংস্কার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বলছে, সনদে যেভাবে অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেভাবেই তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভিযোগ, বিএনপি সনদ বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলন জোরদার করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, জুলাই জাতীয় সনদ কি শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষরেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পরও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই এ প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান বিপরীতমুখী। বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে। অন্যদিকে সরকার সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। তবে ওই কমিটিতে জামায়াতসহ বিরোধী দলের কেউ অংশ নেয়নি।
রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর, বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং গণভোটে জনগণের সম্মতি— সবকিছুর পরও সংস্কারপ্রক্রিয়া এগিয়ে না যাওয়ায় হতাশা বাড়ছে। সনদ প্রণয়নের সময় যে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এক বছর পরও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ আরও গভীর হয়েছে।
অক্ষরে অক্ষরে সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বিএনপি :
সরকারের দাবি, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদের সব প্রস্তাব অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘জুলাই সনদের সবটাই আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আরও বলব। সমাজের সব স্তরের মানুষের মতামত নিয়ে একটি প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করা হবে।’
সংবিধান সংশোধনের পথে সরকার :
সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে গঠিত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ রাখা হলেও তারা এতে যোগ দেয়নি।
এরই মধ্যে কমিটি রাজনৈতিক দল, জুলাই যোদ্ধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন তৈরি করে আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সংশোধনী বিল পাস করানো কঠিন হবে না। তবে বিরোধী দলকে বাইরে রেখে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। বিষয়টি স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বিরোধী দলকে কমিটিতে যোগ দিয়ে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বিরোধী দল কমিটিতে যোগ না দিয়ে দাবি আদায়ে লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। তাদের অবস্থান, সংবিধান সংশোধনের প্রচলিত প্রক্রিয়ায় নয়, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
সনদ বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন :
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিএনপি জুলাই সনদ ধারণ করলে ও জনগণের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করত। সরকার না চাইলে বিরোধী দলের আর কী করার আছে? আন্দোলনে যাওয়াই তো বিরোধী দলের কাজ।’
বিরোধী দলগুলোর দাবি, সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের পরিবর্তে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে। তাদের মতে, এর মাধ্যমেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব। দাবি আদায়ে পর্যায়ক্রমে আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা দিয়ে বিরোধীরা বলছে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জুলাইয়ের চেতনার আলোকে সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এনসিপির অভিযোগ, অবস্থান বদলেছে বিএনপি :
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের অভিযোগ, জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বললেও যেসব বিষয়ে বিএনপির আপত্তি থাকার কথা নয়, সেসব বিষয়েও দলটি এখন বিরোধিতা করছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও রয়েছে। তিনি মনে করেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় যে রূপান্তরের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এক বছর পরও তা পূরণ হয়নি। বরং সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সংস্কারপ্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
যেভাবে তৈরি হয় জুলাই জাতীয় সনদ :
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ওই বছরের অক্টোবরে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমনব্যবস্থা সংস্কারে পৃথক কমিশন গঠন করা হয়।
এসব কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি এবং অধ্যাপক আলী রীয়াজকে সহসভাপতি করে গঠিত কমিশনের দায়িত্ব ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পথ তৈরি করা।
প্রথমে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেয় কমিশন। পরে সেই মতামতের ভিত্তিতে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে ৩২টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৪৯টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মৌলিক সংস্কারের ১৯টি বিষয় নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা হয়। ২৩ দিনের আলোচনায় ১৯টি বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হলেও মাত্র আটটি বিষয়ে সর্বসম্মতি আসে। বাকি বিষয়গুলোতে ভিন্নমত থেকে যায়।
প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপের ভিত্তিতে প্রণীত হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এতে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। বাকি ৩৬টি প্রস্তাব আইন, অধ্যাদেশ, বিধি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতসহ সনদে স্বাক্ষর করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল। দুই দিন পর, ১৯ অক্টোবর স্বাক্ষর করে গণফোরাম। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি সনদে স্বাক্ষর করে এনসিপি।
পাঁচ দফা সংলাপের পর বাস্তবায়ন আদেশ :
সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পাঁচ দফা সংলাপ করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে সরকারকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারির প্রস্তাব দেয় কমিশন। পরে ১৩ নভেম্বর ওই আদেশ জারি করে সরকার।
আদেশ অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হয়। এতে বলা হয়েছিল, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাসহ সনদে উল্লেখিত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের পথ তৈরি হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ভিন্নমতের সুযোগ থাকবে না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়। নির্ধারিত ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়। কিন্তু এরপরও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়। বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। দলটির পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন আদেশকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বলেও অভিহিত করা হয়। অন্যদিকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
এরপর থেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে বিরোধী দলগুলো। অন্যদিকে সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগে এগোচ্ছে। ফলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়েই এখন দুই পক্ষের বিরোধের মূল জায়গা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের চোখে হতাশাজনক অচলাবস্থা :
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পরও এর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়াকে হতাশাজনক বলে মনে করেন বিলুপ্ত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের অঙ্গীকার ও তাগিদ দেখে কমিশন এবং নাগরিকদের বিশ্বাস ছিল, দলগুলো দ্রুত কাঠামোগত পরিবর্তন চায়। সে অনুযায়ী সবার মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে দ্রুত আলোচনা শেষ করে নির্বাচনের পথে এগোনোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
কিন্তু সংস্কার বাস্তবায়নে এখন কোনো উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছেন না জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘সংস্কার বাস্তবায়ন শ্লথগতিতে এগোচ্ছে, এটুকু বলতে পারলেও আমি এক অর্থে আনন্দিত হতাম। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপই দেখতে পাচ্ছি না। এটি শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকারের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ নয়, জনগণের কাছে মতামত চাওয়া এবং জনগণের দেওয়া মতামতকেও উপেক্ষা করার শামিল।’
বিলুপ্ত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদারও সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির অঙ্গীকার পূরণ হয়নি। গণভোটে পাস হওয়া সত্ত্বেও নতুন সংসদের অধিকাংশ সদস্য দ্বিতীয় শপথ নেননি, ১৮০ কার্যদিবসে সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগও নেই। সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন ও সংকুচিত বিলের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে সামনে এগোনোর বদলে আমরা পেছনে হেঁটেছি, যা হতাশাজনক।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান মনে করেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। এ জন্য উভয় পক্ষকেই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সংসদের ভেতরেই সমঝোতার ভিত্তিতে এ সংকটের সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান তিনি।
তবে সনদ স্বাক্ষরকেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তার মতে, কিছু বিষয়ে ঐকমত্য না হলেও সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। নির্বাহী বিভাগ, সংসদ ও বিচার বিভাগের মধ্যে যৌক্তিক ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও জুলাই জাতীয় সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সব মিলিয়ে, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এখন বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে বিরোধে আটকে আছে। গণভোটের রায়, সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং সংসদীয় সংশোধনপ্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের বিপরীতমুখী অবস্থানে সংস্কারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে এক বছর আগে যে সনদকে রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন এখনো রাজনৈতিক সমঝোতার অপেক্ষায়।
কেকে/এআই