বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● তেল-গ্যাসে নাভিশ্বাস      ● ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন : শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, লড়াইয়ে ৫ প্রার্থী      ● ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী      ● জাপানের সঙ্গে ৭টি চুক্তি ও সমঝোতা সই বাংলাদেশের      ● বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী জাপান      ● ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৮২      ● হাম উপসর্গে আরও ২ জনের মৃত্যু      
খোলাকাগজ স্পেশাল
তেল-গ্যাসে নাভিশ্বাস
রবিউল ইসলাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৩ এএম আপডেট: ২৯.১০.২০২৬ ১০:১৬ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

দেশে জ্বালানি ভোজ্যতেল ও বাসাবাড়িতে বেশি ব্যবহৃত সিলিন্ডার গ্যাস অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবনে তীব্র নাভিশ্বাস উঠেছে। এরপরও আবার দাম বাড়ানোর জন্য পাঁয়তারা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে আরও ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। একইসঙ্গে রমজানের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহার ও করছাড়ের জোরালো দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

গত মাসেই ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম এক লাফে ২৫১ টাকা বাড়ানো হয়। এর মধ্যেই আবার দাম ৩০০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আজ বিইআরসির গণশুনানির জানা যাবে নতুন করে দাম বাড়বে কিনা। সামগ্রিকভাবে তেল ও গ্যাসের বাড়তি খরচে সাধারণ মানুষের এমনিতেই নাভিশ্বাস অবস্থা। এর মধ্যে আবার নতুন করে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একলাফে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবের বিপরীতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ইতিবাচক সাড়া বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে রমজানে খেজুরের আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও গতকাল বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। একইসঙ্গে এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোরও কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। সে সময় খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। তৎকালীন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে ওই সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। সে সময় ব্যবসায়ীরা আরও বেশি দাম বাড়ানোর দাবি তুললেও ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশে সরকার মাত্র ৫ টাকা বাড়িয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক দাবি তুললেন তারা।

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। একইসঙ্গে এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ এবং আসন্ন রমজানের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে সরকার। 

বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। আমাদের পাইপলাইনে যে পরিমাণ পণ্য রয়েছে, তা বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট। রমজান কিংবা তার আগে-পরে বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য এবং জাহাজ ভাড়ার ওঠানামা আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১২ কেজি এলপিজির দাম এবার ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব :

১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অপারেটররা। পাশাপাশি এলপিজি মজুত, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রস্তাবের ওপর আজ বৃহস্পতিবার গণশুনানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। 

বিইআরসির গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চার্জ পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানিতে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব, ব্যয়সংক্রান্ত যুক্তি ও ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। তবে দাম বাড়ানোর বিদ্যমান প্রস্তাব কার্যকর হবে, এমন নয়। গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। 

এলপিজি অপারেটরদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বিইআরসি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। সেই হিসাবে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে প্রতি সিলিন্ডারে ভোক্তার খরচ বাড়বে ৩০০ টাকা। অর্থাৎ, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে প্রায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মাসে একটি সিলিন্ডার ব্যবহারকারী পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে আরও ৩০০ টাকা।

প্রস্তাবে যা বলেছে কোম্পানিগুলো :

আমদানিকারক কোম্পানি বা এলপিজি অপারেটররা গত ১৮ অক্টোবর বিইআরসির কাছে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেয়। প্রস্তাবে কোম্পানিগুলো বলেছে, প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি), প্রিমিয়াম বা জাহাজভাড়া ও বিমা ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং জ্বালানি তেলের দাম বিবেচনায় নেয় বিইআরসি। তবে গত পাঁচ বছরে এ খাতের অন্য পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। বর্তমান মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে এসব ব্যয়ের পুরো প্রতিফলন না থাকায় দাম পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন। 

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) চিঠিতে বলা হয়েছে, বিইআরসি মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্য চার্জকে নির্দিষ্ট বা ফিক্সড এবং পরিবর্তনশীল বা ভেরিয়েবল— এ দুই ভাগে হিসাব করে। নির্দিষ্ট চার্জের মধ্যে ল্যান্ডিং চার্জ, লেভি চার্জ, রিভার ডিউজ, কাস্টমস সার্ভে ও পোর্ট চার্জ বাবদ প্রতি টনে ৩০০ টাকা ধরা হয়। অথচ এসব খাতে প্রকৃত ব্যয় ৩৮০ টাকা বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন খোলা কাগজকে বলেন, স্বাভাবিক কারণে যারা এলপিজির ওপর নির্ভরশীল, দাম বাড়লে তা তাদের খরচও বাড়বে। কারণ, এলপিজি ছাড়াও অন্য নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে গেছে। আর এলপিজি এখন খুবই দরকারি পণ্যে পরিণত হয়েছে। আবার যে দাম নির্ধারণ করা হয়, বাজারে সেই দামে পণ্য পাওয়া যায় না। বাড়তি দামে কিনতে হয়। এখন আবার দাম বাড়ালে আবারও বাড়তি দামে সেই পণ্য কিনতে হবে। এতে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  তেল   গ্যাস   নাভিশ্বাস  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close