রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ৮২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজিমুশশান ইসলাহী ইজতেমা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ আয়োজনে আত্মশুদ্ধি, পারিবারিক ও সামাজিক সংস্কার এবং ঈমান-আমল রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা। আসরের নামাজের পর আঞ্জুমানের আমির ও পীর সাহেব বরুণা আল্লামা মুফতি রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভীর অশ্রুসিক্ত মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ইজতেমা।
ইজতেমায় সভাপতির বক্তব্যে পীর সাহেব বরুণা বলেন, আত্মশুদ্ধির চর্চা ছাড়া সমাজ সংস্কার সম্ভব নয়। আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন কিংবা কাউকে ক্ষমতা থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৪৪ সালে শায়খুল ইসলাম আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী (রহ.) যে লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা হলো দলমত-নির্বিশেষে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা।
সমাজ ও পরিবারে ধর্মীয় চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ঘরকে দ্বীনি শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পরিবারের সদস্যদের প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট কোরআন তিলাওয়াত ও ধর্মীয় চর্চায় সময় দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি জুমার বয়ানে ইমামদের সহজ ভাষায় কোরআনের ছোট সূরা ও প্রয়োজনীয় মাসআলা শেখানোর আহ্বান জানান।
ঈমান ও ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্ব
ইজতেমায় বক্তব্য দেন দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক তাকওয়া অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন। বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এলজিবিটিকিউ ও ট্রান্সজেন্ডার সংস্কৃতির বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন শিশুদের ঈমান ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় প্রাথমিক স্তরে রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান।
এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা আব্দুল বাসিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, আওলাদে রাসুল সাইয়্যিদ ফয়সল নাদীম, সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা আকরাম আলী ফরিদপুর, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজীসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম বক্তব্য দেন।
সমাবেশে আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর মধুপুর কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিও উত্থাপন করেন।
এক কাতারে লাখো মুসল্লি
ইজতেমায় জুমার নামাজে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ লক্ষাধিক মুসল্লি অংশ নেন। ভোর থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে জিকির-আজকার ও ধর্মীয় আলোচনায়।
আঞ্জুমানের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শেখ সাদ আহমদ আমীন বর্ণভী, মুফতি ওয়াজেদ আলী ও মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
দিনের শেষ ভাগে আসরের নামাজের পর পীর সাহেব বরুণার মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ক্ষমা ও কল্যাণ কামনা করা হয়। এ সময় লাখো মুসল্লি হাত তুলে প্রার্থনায় অংশ নেন। আবেগঘন পরিবেশে অশ্রুসিক্ত মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এ আয়োজন।
উল্লেখ্য, আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বরুণায় অবস্থিত। সংগঠনটি ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
কেকে/সাশ