আলিম পরীক্ষার ফলাফলে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় তিনটি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ছাড়া আরও চারটি মাদ্রাসায় পাসের হারও বেশ হতাশাজনক। সাতটি প্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র সাতজন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
ফলাফল অনুযায়ী, টোক নগর দারুল হাদিস আলিম মাদ্রাসা থেকে ছয়জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউই পাস করেনি। আনজাব বালিকা আলিম মাদ্রাসার ১০ জন এবং কাপাসিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার ১২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। অর্থাৎ তিনটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য।
কাপাসিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছাইদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছে। পরীক্ষা হলে সিসি ক্যামেরা থাকায় শিক্ষার্থীরা ভীত হয়ে পড়েছিল। তারা ঠিকমতো লিখতে পারেনি।’
তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে ২৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিপরীতে বর্তমানে ২১ জন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
অন্যদিকে, আনজাব বালিকা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসার সব ছাত্রী বিবাহিত। এ কারণে তারা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকত না।’ অনিয়মিত উপস্থিতিকে তিনি ফলাফল খারাপ হওয়ার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া দিঘাব আমজাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। মেরুয়া আলিম মাদ্রাসার ছয়জনের মধ্যে একজন, বেলাশীমদিনাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার নয়জনের মধ্যে একজন এবং আড়ালিয়া কেরামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসার চারজনের মধ্যে দুজন উত্তীর্ণ হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, উল্লেখিত সাতটি প্রতিষ্ঠানে সম্মিলিত পাসের হার মাত্র ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮৭ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছে।
একাধিক প্রতিষ্ঠানে এমন ফলাফলের পর শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ও ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আরিফ সরকার বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে নোটিশের মাধ্যমে ফলাফলের কারণ জানতে চাওয়া হবে। এ ছাড়া শিক্ষা বোর্ডও তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’
কেকে/ এমএস