শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের নির্বাচিত সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম। দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারও বই-খাতা হাতে তুলে নিয়ে ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ৬৩ অর্জন করেছেন তিনি। তার এই সাফল্য এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বয়স কিংবা দীর্ঘ শিক্ষাবিরতিকে বাধা মনে করা মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন তিনি।
আমিনুল ইসলামের বাড়ি মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম তুরাব আলী। ১৯৯৯ সালে মাওনা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। এরপর পারিবারিক জটিলতা ও সংসারের দায়িত্বের কারণে আর নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সময়ের সঙ্গে বেড়েছে দায়িত্ব, কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর স্বপ্নটি রয়ে গেছে মনের মধ্যে।
দীর্ঘদিন পর সেই স্বপ্ন পূরণে উদ্যোগী হন আমিনুল ইসলাম। জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেকে আরও শিক্ষিত করে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে গাজীপুরের পুবাইল এলাকার সিটি ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। এরপর সংসার, ব্যক্তিগত কাজ ও জনসেবার ব্যস্ততার মধ্যেই শুরু করেন নতুন করে পড়াশোনা।
দিনের কাজ শেষে অবসর সময়ে বই নিয়ে বসতেন তিনি। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতির কারণে নতুন করে পড়াশোনায় ফেরাটা সহজ ছিল না। তবে নিজের ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় দিয়ে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন। গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলে জিপিএ ৪ দশমিক ৬৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে পূরণ হয় তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন।
আমিনুল ইসলামের সহকর্মী ইউপি সদস্য শামীম মৃধা বলেন, ‘আমিনুল ইসলাম একজন দায়িত্বশীল মানুষ। জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ বয়সে সময় বের করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই অর্জন আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে।’
নিজের অনুভূতি জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ বয়সে পড়াশোনা করে চাকরি করার ইচ্ছা আমার নেই। লেখাপড়ার প্রতি অনেক আগ্রহ ছিল, কিন্তু পারিবারিক জটিলতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পড়তে পারিনি। এখন এইচএসসি পাস করতে পেরে ভালো লাগছে। এটি আমার কাছে শুধু একটি ফল নয়, বরং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি বার্তা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি ৪৭ বছর বয়সে এসে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারি, তাহলে নতুন প্রজন্ম কেন পারবে না? যারা বিভিন্ন কারণে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে, তারা যেন আমার এই অর্জন দেখে আবারও পড়াশোনা শুরু করতে উৎসাহ পায়। সুযোগ হলে আগামীতে অনার্সে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে চাই।’
আমিনুল ইসলামের এই সাফল্য আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, জীবনের নানা দায়িত্বের কারণে শিক্ষাজীবনে বিরতি পড়লেও শেখার আগ্রহ ও অধ্যবসায় থাকলে নতুন করে শুরু করার পথ খোলা থাকে।
কেকে/ এমএস