গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাসন থানার সামনে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে শিববাড়ী সড়ক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে শিববাড়ীগামী সড়কে জিএমপি কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে বাসন থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শতাধিক শ্রমিক বাসন থানার সামনে জড়ো হয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জিএমপি কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পুলিশকে অন্তত ১০টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা যায়।
জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন খোলা কাগজকে বলেন, শ্রমিকেরা বাসন থানার দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় লিরিক কারখানার চার শ্রমিককে সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। তাদের একজন জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে তাদের কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। তাই তারা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
এক নারী শ্রমিক বলেন, তার আশপাশে তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড পড়েছে। বিকট শব্দে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কাজে যোগ দিতে এলেও পরিস্থিতির কারণে কাজ করতে পারেননি। সহকর্মীর জন্য অপেক্ষা করে বাড়ি ফিরবেন বলে জানান তিনি।
উডেছা পোশাক কারখানার এক নারী শ্রমিক জানান, তাদের কারখানায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বুধবার কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে শিববাড়ী সড়কের আশপাশে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন খোলা কাগজকে জানান, বুধবার থেকে গাজীপুরের সব পোশাক কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেকে/সাশ