শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এমন অভিযোগ করেছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
শামীমা পারভীন বলেন, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। এদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীর সংখ্যা বেশি। হেমায়েতপুরে শুরুতে তাঁরাই পোশাক কারখানায় হামলা চালান। এতে আতঙ্কিত হয়ে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। প্রকৃত শ্রমিকেরা ওই দিনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
পুলিশ সুপার জানান, হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একটি ককটেলসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
এদিকে শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার ও আশুলিয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই শতাধিক পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে।
এর আগে আশুলিয়ায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। বুধবার সেই উত্তেজনা সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় একের পর এক কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় কর্মহীন হয়ে পড়েন শ্রমিকেরা। একই সঙ্গে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে।
কেকে/সাশ