বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬,
২১ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী      ● মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ● হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান, মুচলেকায় মুক্ত রাজীব ঘোষ      ● শ্রমিকদের ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী অপচেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন      ● শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক      ● গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণ হবে ডিসেম্বরের মধ্যে      
দেশজুড়ে
আদিতমারীতে সবজির বাম্পার ফলন, দাম পাচ্ছে না কৃষকরা
রেজাউল করিম রাজ্জাক, আদিতমারী (লালমনিরহাট)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

খেতে সবজির বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। বাজারে উৎপাদিত সবজির ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক কৃষকেরা। সার, বীজ, কীটনাশক ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী, ভাদাই, সারপুকুর, ভেলাবাড়ী ও পলাশীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়। এর মধ্যে কমলাবাড়ী ইউনিয়নের কৃষকেরা সবজি উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এ এলাকার উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। বছরজুড়েই বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন এখানকার কৃষকেরা।

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের পরিশ্রমে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, পটল ও লাউসহ বিভিন্ন শীতকালীন ও বারোমাসি সবজির ভালো ফলন হয়েছে। তবে উৎপাদন বেশি হলেও পাইকারি বাজারে দাম কম। অনেক ক্ষেত্রে সবজি বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচও উঠছে না। ফলে খুচরা বাজারে কম দামে সবজি পেয়ে ক্রেতারা স্বস্তি পেলেও লোকসান গুনছেন উৎপাদকেরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কুমড়ীরহাটের সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন যানবাহনে করে কৃষকেরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, ডেঙা শাক, কুমড়াসহ নানা ধরনের সবজি নিয়ে এসেছেন। কিন্তু দূরদূরান্তের পাইকার না আসায় কম দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। আবার কম দামেও সবজি বিক্রি করতে না পেরে অনেক কৃষককে বাজারে বসে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ অবিক্রীত সবজি বাজারেই ফেলে যাচ্ছেন।

বাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজি বেগুনের দাম পড়ছে ৮ থেকে ১০ টাকা। মুলা প্রতি মণ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ১২ থেকে ১৫ টাকা। ফুলকপি প্রতি পিস ১০ থেকে ২০ টাকা, বাঁধাকপি ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং লাউ ৩ থেকে ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিমের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা।

বাজারে সবজির দাম কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় বড় ব্যবসায়ীরাও সবজি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। ফলে উৎপাদিত সবজি কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের। অনেক সময় বিক্রির টাকা দিয়ে শুধু পরিবহন ভাড়াই মেটানো যাচ্ছে; শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে বাড়ি থেকে টাকা এনে।

কুমড়ীরহাটে সবজি বিক্রি করতে আসা বড় কমলাবাড়ী (বাদিয়ার চড়া) এলাকার জালাল, আশরাফুল ও সাহাবুদ্দিন জানান, গত বছর লাউ চাষ করে তারা লাভবান হয়েছিলেন। সে অভিজ্ঞতা থেকে এবারও বেশি আশা নিয়ে লাউ চাষ করেন। কিন্তু বাজারে লাউয়ের দাম ও ক্রেতা—দুটিই কম।

তারা বলেন, বর্তমানে প্রতিটি লাউ ৩ থেকে ৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। কখনো বিক্রি না হলে বাজারেই ফেলে যেতে হয়। বেশি দামে সার, বীজ ও কীটনাশক কিনে চাষ করেও এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

বড় কমলাবাড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘এক মণ বেগুন খেত থেকে তুলে বাজারে আনতে যে খরচ হয়, বিক্রি করে তার অর্ধেকও পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে বাজারে বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন ভাড়ার টাকাও ওঠে না। অনেক সময় খেতেই সবজি নষ্ট করার অবস্থা তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর সবজির দাম এত সস্তা আর কোনো বছর দেখিনি। ভ্যানে বস্তা বোঝাই করে সবজি নিয়ে বাজারে আসি, কিন্তু পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। দেড় দোন (৫১ শতক) জমিতে বেগুন চাষ করতে বীজ, সার ও কীটনাশকসহ প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই খরচও তুলতে পারিনি।’

পশ্চিমপাড়া এলাকার লাউচাষি সুরজত বলেন, ‘বীজ, সার, কীটনাশক আর সেচের খরচ বেড়েছে। ধারদেনা করে জমি আবাদ করেছি। এখন ক্ষেতের লাউ বাজারে নিয়ে দেখি ক্রেতা নেই। পাইকাররা পানির দামে ৩ থেকে ৫ টাকা দরে কিনতে চায়। এই দামে বিক্রি করলে ঋণ শোধ তো দূরের কথা, সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়বে।’

বাজারে সবজির দাম কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। সবজি কিনতে আসা রাজ্জাক বলেন, ‘শীতের শুরুর দিকে সবজির দাম অনেক বেশি ছিল। আগে ৫০০ টাকার সবজি কিনলেও ব্যাগ ভরত না। এখন ১০০ টাকার সবজিতেই বস্তা ভরে বাসায় নেওয়া যায়। কিছুদিন আগে একটি লাউ কিনেছিলাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। এখন দুটি লাউ কিনলাম মাত্র ৬ টাকায়। বাজারে সবজির দাম খুব কম। আমি প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় সবজি রাখি।’

লোকসান থেকে বাঁচতে সরকারি উদ্যোগে পরিবহন সুবিধা বাড়ানো এবং জেলা পর্যায়ে সবজি সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পাইকারি বাজারে পণ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা এবং বিশেষ ‘ফার্মার্স মার্কেট’ বা কৃষক বাজারের পরিধি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত সবজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, পরিবহন খরচ কমানো এবং সরকারের পক্ষ থেকে সবজির সর্বনিম্ন সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তা না হলে আগামীতে কৃষকেরা সবজি চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্যনিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close