কৃষিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি কৃষিকে রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, যেসব কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়, সেগুলোর দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম ও লিচুবাগান, আধুনিক পদ্ধতিতে আদা, গ্রীষ্মকালীন কাঁচামরিচ ও টমেটো চাষের উৎপাদন এলাকা এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সেচ প্রকল্প পরিদর্শনকালে কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে আমদানিনির্ভরতা থেকে রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তর করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। এ অঞ্চলে আমের পাশাপাশি ধান ও সবজি উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, আমবাগানের গাছের মধ্যবর্তী অব্যবহৃত জমিতে আদা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। আমবাগানে আদা চাষ বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি কৃষকের বাড়তি আয় নিশ্চিত হবে। এ জন্য মাটির উপযোগিতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহারের উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে একটি বড় প্রকল্প তাঁর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে।
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি। তার মতে, আমের সংরক্ষণকাল বাড়ানো গেলে মৌসুমে দাম কমে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে অগ্রগতি হয়েছে। এখন আদা, রসুন ও বর্ষাকালীন টমেটোর উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী মৌসুম থেকে বর্ষাকালীন টমেটো চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সফরকালে মন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গায় রোপা আমন ধান কর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএমডিএর প্রতিনিধি এবং কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/ এমএস