বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬,
২১ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা      ● সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী      ● মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ● হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান, মুচলেকায় মুক্ত রাজীব ঘোষ      ● শ্রমিকদের ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী অপচেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন      ● শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক      
দেশজুড়ে
৯৫ কিলোমিটার নৌপথে ভাড়া ২২০০ টাকা, সেন্টমার্টিন যাত্রার শুরুতেই ক্ষোভ
মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস পর কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। তবে পর্যটন মৌসুমের প্রথম দিনেই নির্ধারিত হারের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় এবং জাহাজের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন পর দ্বীপে পর্যটক আসায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রী পরিবহন নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ‘এমভি বার আউলিয়া’। প্রথম দিনে ট্যুরিজম বোর্ডের ট্রাভেল পাস ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৮৮৬ জন পর্যটক টিকিট সংগ্রহ করেন।

চলতি মৌসুমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটককে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে সরকার। জেলা প্রশাসন প্রাথমিকভাবে তিনটি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেয়। তবে যাত্রীসংখ্যা কম হওয়ায় শেষ মুহূর্তে ‘এমভি কর্ণফুলী’র যাত্রা বাতিল করা হয়। ফলে ৮৮৬ জন পর্যটককেই ‘এমভি বার আউলিয়া’য় নেওয়া হয়। তাঁদের সঙ্গে আরও প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্ত হন।

অথচ জাহাজটির অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন। ফলে প্রথম যাত্রাতেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া টিকিটের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেক পর্যটক।

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের দূরত্ব প্রায় ৯৫ কিলোমিটার। প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিআইডব্লিউটিএর কিলোমিটারপ্রতি ৩ টাকা ১৭ পয়সা ভাড়া হিসাব করলে এ পথে ভাড়া হওয়ার কথা প্রায় ৩০১ টাকা। কিন্তু চলতি মৌসুমের প্রথম যাত্রায় সর্বনিম্ন টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। পর্যটকদের অভিযোগ, এটি উল্লেখিত হিসাবের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘এমভি বার আউলিয়া’ জাহাজটি ২০২২ সালে চীন থেকে সরকারিভাবে আনা হয়। তখন এটি চট্টগ্রাম-হাতিয়া নৌপথে চলাচল করত। ১৪৫ কিলোমিটারের ওই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগত প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা। সে সময় নন-এসি শোভন চেয়ারের সর্বোচ্চ ভাড়া ছিল ৬৫০ টাকা।

পরবর্তী বছর জাহাজটি ‘কর্ণফুলী ক্রুজ লাইন’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি জাহাজটি আধুনিকায়ন করে সেন্টমার্টিন নৌপথে চালু করে। তবে হাতিয়া রুটের তুলনায় দূরত্ব কমলেও বর্তমানে সর্বনিম্ন ভাড়া ২ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

হাতিয়ার বাসিন্দা ও ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘হাতিয়া রুটে এই জাহাজের ভাড়া ছিল ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। এখন দূরত্ব কমলেও ভাড়া ২ হাজার ২০০ টাকা! এটা পুরোপুরি অযৌক্তিক।’

গ্রুপ ট্যুরে আসা নওরীন নেওয়াজ বলেন, ‘ভাড়া অনেক বেশি। যদি পর্যটন জোন হিসেবে এই ভাড়া নেওয়াও হয়, তবে তা দ্বীপের উন্নয়নে খরচ করা উচিত এবং তার হিসাব সবার সামনে প্রকাশ করা দরকার।’

কুয়াকাটার বাসিন্দা ও খুলনায় কর্মরত খালেদ হোসাইন টিপু বলেন, ঢাকা-পটুয়াখালী ২৫২ কিলোমিটার নৌপথে দেশের অন্যতম বিলাসবহুল জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু সেখানেও এত বেশি ভাড়া নেওয়া হয় না।

তবে জাহাজ মালিকরা এ ভাড়াকে অতিরিক্ত বলতে রাজি নন। তাদের দাবি, বছরের মাত্র চার মাসের আয় দিয়ে সারা বছর জাহাজের কর্মচারীদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বহন করতে হয়। পাশাপাশি ঘাটের ইজারা ও বিভিন্ন সরকারি খরচও রয়েছে।

‘স্কোয়াব’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘টিকিটের দামে শুধু জাহাজ ভাড়া থাকে না। এর সঙ্গে পরিবেশ ফি, ঘাটের ইজারা, ট্যুর অপারেটরদের ১০ শতাংশ কমিশন, সেবা চার্জ, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির টাকা এবং জ্বালানি খরচ যুক্ত থাকে।’

তবে টিকিটে এসব খরচের আলাদা বিবরণ উল্লেখ থাকে না। বর্তমানে অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ব্যবহার করে টিকিট ও ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে হয়।

এদিকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে বেলা সোয়া ১টার দিকে জাহাজটি সেন্টমার্টিন দ্বীপে নোঙর করে। দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের আগমনে আনন্দে মেতে ওঠেন দ্বীপের বাসিন্দারা। ফুল দিয়ে পর্যটকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান তাঁরা।

দ্বীপে প্রথমবার ঘুরতে আসা ঢাকার যাত্রাবাড়ীর পর্যটক ইসরাত জাহান বলেন, ‘জাহাজ থেকে নীল সমুদ্রের পানি দেখে মন ভরে গেছে। সেন্টমার্টিনে নামার পর যে অনুভূতি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

প্রথম দিনের পর্যটকদের দ্বীপে রেখে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উদ্বোধনী যাত্রার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। প্রথম দিন কোনো পর্যটক দ্বীপ থেকে ফিরে আসেননি। ৮৮৬ জন পর্যটকই দ্বীপে রাতযাপন করছেন। শুক্রবার বিকেলে একই জাহাজে তাঁদের কক্সবাজারে ফেরার কথা রয়েছে।

এবারের পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এর মধ্যে পর্যটকদের পলিথিন ব্যাগ ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মোহাম্মদ মোশারফ বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করছে। পর্যটকরা যাতে নিষিদ্ধ পলিথিন ও প্লাস্টিক নিয়ে দ্বীপে যেতে না পারেন, সে জন্য ঘাটে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও তদারকি নিয়মিত চলমান থাকবে।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, জেলা প্রশাসনের একটি দল প্রতিদিন পর্যটকদের যাতায়াত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ জাহাজে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন কিংবা পর্যটকদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  সেন্টমার্টিন যাত্রা   ক্ষোভ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close