কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রবিরোধী অভিযানে দায়িত্ব পালনকালে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়ে মারা গেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. তিতাস শেখ (২৮)। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তিতাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর নিজ জেলা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। তরুণ এই সেনাসদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। তাঁর বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে।
পরে তাঁকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আফজাল হোসেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে নগরকান্দার বারখাদিয়া এলাকার টুলু শেখের মেয়েকে বিয়ে করেন তিতাস। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান ছিল না। স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী হারিয়েছেন জীবনসঙ্গীকে। অন্যদিকে প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।
তিতাসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার। মৃত্যুসংবাদ এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই স্বজনদের বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
দেশের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত অবস্থায় ২৮ বছর বয়সী এই সেনাসদস্যের মৃত্যুতে নগরকান্দাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তাঁর অকালপ্রয়াণে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
কেকে/ এসএমএন