আসল যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সব জাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সামরিক সদস্যরা ইরানের আশেপাশে তাদের অবস্থান বজায় রাখবে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বার্তায় তিনি এ কথা জানান।
বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘যতক্ষণ না সম্পাদিত প্রকৃত চুক্তিটি সম্পূর্ণরূপে মেনে চলা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সব জাহাজ, বিমান এবং সামরিক কর্মী, অতিরিক্ত গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্রসহ, ইরানের অভ্যন্তরে ও তার আশেপাশে অবস্থান করবে।’
চুক্তি মানা বা না মানা প্রসঙ্গে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যদি কোনো কারণে তা না হয় (চুক্তি মানা না হয়)—তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম—তাহলে গোলাবর্ষণ শুরু হবে। আরও বড়, আরও ভয়াবহ এবং আরও শক্তিশালীভাবে তা হবে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।’
এদিকে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরাইলের বাহিনীর ভয়াবহ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছে ইরান। ইসরাইলের এই বিধ্বংসী হামলায় কয়েক শত মানুষ নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান এখন পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছে।
বুধবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরাইল ইতোমধ্যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করে যুদ্ধবিরতির বেশ কিছু শর্ত লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের শর্ত দিয়ে চুক্তির অবমাননা করছে।’
তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অযৌক্তিক।’
গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থাতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়; যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের মিত্ররা যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়েছে। যা লেবানন ও অন্যসব রণাঙ্গনে কার্যকর হবে।
আগামীকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও মানতে চাইছে না ইসরাইল। যুদ্ধবিরতির পর ইরানে হামলা বন্ধ হলেও লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটি।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর বলছে, ‘ইরানে মার্কিন হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করলেও এটা লেবাননের ওপর কার্যকর হবে না।’
নেতানিয়াহু হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকবে।’
ইসরাইলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। হাঙ্গেরি সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয় ইরানিরা ভেবেছিলেন যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননও রয়েছে, কিন্তু আসলে তা নয়।’
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ও বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানী বৈরুতসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। ইসরাইলি বিমান বাহিনী জানায়, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননজুড়ে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা। হামলায় ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি।
লেবাননে ইসরাইলের এই অব্যাহত হামলার কারণে এখন যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শান্তি আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক দূরত্ব দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে এবং মজুত করা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের ইঙ্গিত দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে মিলে মাটির গভীরে থাকা সব পরমাণু উপাদান খনন করে সরিয়ে ফেলবে।’
তবে, বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখে।’
সূত্র: রয়টার্স ও আল জাজিরা।
কেকে/এমএ