ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অসহায় নারীর বাড়িতে ঢুকার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন সাবেক ডিআইজি ভানু লাল দাস। তার সেগুন গাছের বাগানে গরু চড়ানো ও বেঁধে রাখার অপরাধে তিনি এ কাণ্ড করেছেন। বাড়ির চলাচলের পথ বন্ধ করায় ভুক্ত রাশিদা বেগম পরিবার-পরিজন নিয়ে রয়েছেন বেকায়দায়। ভয়ে প্রতিবেশী ওই নারী কোনো ধরনের প্রতিবাদ করতে পারছে না। এর ফলে কোন প্রতিকারও পাচ্ছে না তিনি।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামে দেখা গেছে, গ্রামীন একটি সড়ক ঘেঁষে পাকা একটি ভবন। আশপাশের বিশাল খোলা জায়গায় রয়েছে সারিসারি সেগুনের গাছ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই জায়গা ও বাগানের মালিক পুলিশের সাবকে অতিরিক্ত ডিআইজি ভানু লাল দাস। ২০২০ সালে তিনি অবসরে যান। গ্রামের বাড়িতে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। তবে মাঝেমধ্যে আসা যাওয়া করেন। গ্রামে রয়েছে ডিআইজির ভাইসহ অন্য স্বজনরা। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল সম্পদ। আর ওইসব সম্পদ এলাকার নির্দিষ্ট কিছু লোকজন দেখভাল করেন। একমাত্র ভাইয়ের সাথে রয়েছে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ।
প্রতিবেশী রাশিদা বেগম বলেন, ‘আমি প্রায় ১০ বছর আগে ডিআইজির সেগুন বাগানের কাছে জায়গা কিনে বসতবাড়ি করি। এতো দিন এখানেই দুই বোন-স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছিলোম। আর বাড়িতে ঢুকতে হয় ডিআইজির সেগুন বাগানের ভিতর দিয়ে।’
রাশিদার বোন রাবিয়া বেগম বলেন, ‘আমাদের দুইটি গরু এই বাগানের ভিতরেই ঘাস খায়। আর এতে ক্ষিপ্ত হয় বাগান দেখভাল করার দায়িত্বরত এলাকার চাঁন মিয়া ও কালাম। তারা ঘটনাটি ভানু লাল দাসকে জানায়। তার নির্দেশেই গরু চড়ানো নিষেধসহ নানা ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন করা হচ্ছে আমাদের ওপর। এই ভয়ে আমি ও আমার স্বামী মাহতাব এলাকা ছাড়তে বাধ্য হই। পরে ২০২৫ সালের কোরবানির দুই দিন আগে চাঁন মিয়া ও কালাম মিলে বসতবাড়ির প্রবেশ পথ বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে দেয়। এ অবস্থার মধ্যেই কোনো মতে বাঁশের বেড়ার ফাঁক দিয়ে মাথা নিচু করে অতি কষ্টে চলাচল করতে হচ্ছে।’
এ ঘটনা জানতে চাইলে কালাম বলেন, ‘ওই নারী (রাবিয়া) ভালো না, মামলাবাজ। ডিআইজি সাহেবের জায়গা দিয়ে বাড়িতে যায় অথচ তাকেই গালাগাল করে।’
প্রবেশ পথ বন্ধ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা উনার (ডিআইজি) সিদ্ধান্ত। আমার বলার কিছু নেই।’
জানতে চাইলে ভানু লাল দাসের ভাই কানু লাল দাস বলেন, ‘উনার(ডিআইজ) নির্দেশেই অসহায় এই পরিবারটির বসতবাড়িতে যাওয়ার একমাত্র পথটি বন্ধ করে দেয় তার নিজস্ব লোক। এটা খুবই অমানবিক কাজ হয়েছে।’
এ বিষয়ে ভানু লাল বলেন, ‘বাগানটা অনেক কষ্ট করে করেছি। আর সেই বাগানে গরু-বাছুর বেঁধে রাখা ছাড়াও গোবর ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করে। এতে বাধা দিলে আমার পরিবারকে গালাগাল করে। এই জন্য হয়তো যারা আমার সম্পদ দেখভাল করে, তারাই হয়তো গরু যাতে না আসে, এই জন্য পথ বন্ধ করে রেখেছে। তবে, মানুষ চলাচলে বাধা নেই।’
আঠারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবের আলম রূপক বলেন, ‘অতি উৎসাহী কিছু লোক এ কাণ্ড করতে পারে। এ বিষয়ে ডিআইজির সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ