কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কুতুবদিয়া পাড়ায় পাহাড় ধসের ঘটনায় এক অসহায় পরিবারের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে একটি শিশু এবং মুহূর্তের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারগিস আক্তারের বসতঘর। ভেঙে গেছে ঘরের খাটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী। বর্তমানে আহত শিশুর চিকিৎসা এবং পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে।
রোববার (৫ জুলাই) মাগরিবের পর হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে নারগিস আক্তারের বসতঘরের ওপর। বিকট শব্দে ঘরের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আতঙ্কে পরিবারটির সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় ধসের আঘাতে এক শিশু আহত হয়। পরে পরিবারের লোকজন দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
জানা যায়, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ঘটনাটি ঘটে যায়। ধসের কারণে ঘরের খাট, আসবাবপত্র, রান্নার সামগ্রী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পরিবারটির আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অনেক বেশি।
ক্ষতিগ্রস্ত নারগিস আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছোট্ট ঘরটাই ছিল সবকিছু। এখন সেই ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত। ঘরের জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। আমার সন্তান আহত হয়েছে। কীভাবে কী করব জানি না, কোথায় থাকব, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয়রা জানান, নারগিস আক্তার একজন অসহায় নারী। বহু কষ্টে গড়ে তোলা ছোট্ট বসতঘরটিই ছিল পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল। পাহাড় ধ্বসের পর সেই আশ্রয়ও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। পরিবারটি এখন চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এলাকাবাসীর মতে, আহত শিশুর চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করা পরিবারটির পক্ষে সম্ভব নয়। দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ জোগাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে নতুন করে ঘর সংস্কার ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব।
বর্তমানে পরিবারটির জরুরি প্রয়োজন সহায়তা, নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা, খাদ্যসামগ্রী এবং আর্থিক সহযোগিতা। মানবিক সহায়তা পেলে তারা আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও মানবিক ব্যক্তিদের প্রতি অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ফরিদ আলম । স্থানীয়রা জানান, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের সামান্য সহযোগিতা ও জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের আর্থিক সহযোগিতায় নারগিস আক্তারের পরিবারের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান,ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা করে ইউএনও অফিসে পাঠানো হবে এবং স্থানীয় মেম্বারকে বলেছি, তিনি পরিদর্শন করে আসার পর পরবর্তীতে বাকি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/ এমএস