মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬,
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি করল সরকার      গ্রামপর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার      এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলার নিন্দা, দোষীদের শাস্তির দাবি      সবুজ বিদ্যুতে নতুন কৌশল      ৬ দিনের বিরতির পর আবার বসছে সংসদ অধিবেশন      সাভারে এনসিপির সমাবেশস্থলে ককটেল বিস্ফোরণ      টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি      
দেশজুড়ে
ভারী বর্ষণে রামুর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, পৌঁছায়নি সরকারি সহায়তা
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:২০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের রামু উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, খুনিয়াপালং, রাজারকুল, ঈদগড় ও ফতেখাঁরকুলসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার সাধারণ মানুষ। তবে বন্যা পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করলেও এখনো পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে। এতে দুর্গত এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল (৬ জুলাই) ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসে  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একদিনে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, একইভাবে পেকুয়ায় একজন মারা গেছেন। একদিনে মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তীব্র নদীভাঙনে আতঙ্কে গর্জনিয়ার বাসিন্দারা

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাঁকখালী নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে। গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বোমাংখিল এলাকার বাসিন্দা আতিক জানান, নদীর প্রবল স্রোতের কারণে পাড়ের মানুষ গভীর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, গত বছরসহ বিগত কয়েকটি বর্ষা মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা বা শুকনো খাবার দেওয়া হয়নি।

পাহাড়ধসে থমকে গেছে থোয়াঙ্গারকাটা

ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ধসে এসে পড়ছে প্রধান সড়কগুলোতে। থোয়াঙ্গারকাটা এলাকার বাসিন্দা ওসমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পাহাড়ের মাটি ধসে সড়কে চলে আসায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন সংকটের মুখোমুখি হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, “জনপ্রতিনিধি থাকলেও না থাকার মতো এখানকার অবস্থা।”

রাজারকুলে ড্রেনেজ সংকট: কর্দমাক্ত সড়কে ব্যাহত শিক্ষার্থীদের যাতায়াত

এদিকে রাজারকুল ইউনিয়নের চিত্রও ভিন্ন নয়। ইউনিয়নের বাসিন্দা আরিফ জানান, অপরিকল্পিত সড়ক ও পানি নিষ্কাশন (ড্রেনেজ) ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকছে। এর সঙ্গে পাহাড়ি মাটি ধসে যুক্ত হওয়ায় পুরো সড়ক এখন কর্দমাক্ত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণের জন্য হাহাকার

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বেশ কয়েকটি স্থানে সড়ক ধসে গিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় অনেকেই রান্না করতে পারছেন না। দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকট। দুর্গত মানুষের অভিযোগ, বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কোনো তৎপরতা তাদের চোখে পড়েনি।

এদিকে বন্যার বিষয় নিয়ে কথা বলতে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ অনতিবিলম্বে বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি খাদ্যসহায়তা, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভারী বর্ষণ   বন্যা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close