মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬,
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা      ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু পরীক্ষা ফ্রি করল সরকার      গ্রামপর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার      এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলার নিন্দা, দোষীদের শাস্তির দাবি      সবুজ বিদ্যুতে নতুন কৌশল      ৬ দিনের বিরতির পর আবার বসছে সংসদ অধিবেশন      সাভারে এনসিপির সমাবেশস্থলে ককটেল বিস্ফোরণ      
দেশজুড়ে
শ্রমিক তালিকায় মেম্বারের স্বজন ও বিত্তবান
কালাইয়ে খাল পুনঃখননে অনিয়মের অভিযোগ
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে দায়সারা কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রকৃত দরিদ্র শ্রমিকদের বাদ দিয়ে তার স্বজন ও বিত্তবান ব্যক্তিদের শ্রমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার তালোড়া-বাইগুনি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) অনুযায়ী খাল পুনঃখননের কাজ হয়নি। নির্ধারিত সময় ২৯ জুন প্রকল্প শেষ দেখানো হলেও অনেক অংশে কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে স্থানীয় কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কালাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ গত ১৩ মে শুরু হয় এবং ২৯ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী খালের ওপরের প্রস্থ ২০ ফুট (কিছু অংশে ১৫ ফুট), তলদেশের প্রস্থ ৮ ফুট এবং গভীরতা ৫ ফুট নির্ধারণ করা হয়।

তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের শুরুতে অল্প কিছু অংশে ২০ ফুট প্রস্থ বজায় রাখা হলেও অধিকাংশ স্থানে তা ১৫ থেকে ১৯ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ। গড়ে ওপরের প্রস্থ সাড়ে ১৫ ফুটের বেশি নয়। তলদেশের প্রস্থও অধিকাংশ স্থানে ৮ ফুটের পরিবর্তে ৬ ফুটের নিচে। প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় কোনো খননকাজের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ অংশজুড়ে কচুরিপানা অপসারণ না করায় পানি চলাচলেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পে ১২৫ জন শ্রমিকের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাস্তবে কাজ করেছেন মাত্র ৫০ থেকে ৫৫ জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমিক তালিকায় প্রকৃত দরিদ্র শ্রমিকদের পরিবর্তে প্রকল্প সভাপতির নিকট আত্মীয় ও বিত্তবান ব্যক্তিদের নাম রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, তালিকাভুক্ত অনেকেই মাঠে কাজ করেননি। তাদের মধ্যে অনেকের ১০ থেকে ২০ বিঘা পর্যন্ত আবাদি জমি রয়েছে। অথচ তাঁদের নাম ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত শ্রমিকরা কাজ ও মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও তালোড়া-বাইগুনি গ্রামের বাসিন্দা ছুমির জালাল বলেন, ‘খালটি খননের আগেই ভালো ছিল। এখন যেভাবে খনন করা হয়েছে, তাতে কৃষকদের সমস্যা আরও বেড়েছে। প্রকল্প সভাপতি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। প্রশাসনের লোকজনও অনিয়ম দেখেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন। তিনি দাবি করেন, খাল খননের কাজ শতভাগেরও বেশি হয়েছে। তার ভাষ্য, ‘সঠিকভাবে পরিমাপ করলে কোথাও ওপরের প্রস্থ ২০ ফুটের বেশি, তলদেশ ৯ ফুট এবং গভীরতা ৭ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত পাওয়া যাবে। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় সিডিউলের চেয়েও বেশি কাজ করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের সমস্যার কারণে গত মৌসুমে প্রায় ১ হাজার ২০০ বিঘা জমির আলু নষ্ট হয়েছিল।’

কালাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। অনেক অংশে সঠিকভাবে খনন করা হয়নি। সরেজমিনে পরিমাপের ভিত্তিতেই বিল পরিশোধ করা হবে। যেসব অংশে কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো আগামী অর্থবছরে পুনঃখনন করা হবে। শ্রমিক তালিকায় প্রকল্প সভাপতির স্বজন ও বিত্তবানদের নাম থাকার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা সরেজমিনে যে বাস্তব চিত্র পেয়েছেন, সেটাই লিখতে পারেন।’

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close