যশোরের কেশবপুর-মনিরামপুর এবং সাতক্ষীরার তালা ও খুলনার ডুমুরিয়ার ১০ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে উদ্ধারে রাত-দিন কাজ করছে সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। হঠাৎ বৃষ্টিতে কেশবপুর পৌর এলাকায় একাধিক স্থানে সদ্য খনন করা নদীর পাড় ধসে পড়ায় বাসিন্দাদের বসতঘর, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রক্ষায় প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পাউবো কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, হরিয়ার নদীর কেশবপুর পৌর এলাকা বালিয়াডাঙ্গা অংশে পাড় ধসে পড়া এলাকার বাড়িঘর রক্ষায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৬ মিটার বল্লী বসিয়ে সাথে ডাউন সিট স্থাপন করে বাড়িঘর রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পাউবো যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জি জানান, কেশবপুর পৌরশহরে মধ্যদিয়ে প্রবাহিতা হরিহর নদীর বালিয়ডাঙ্গা এলাকায় ১৩০ মিটার জায়গায় মাটির মান খারাপ থাকায় খনন পরবর্তী ধ্বসে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর সহায়তায় বল্লি পুতে পাড় রক্ষার কাজ চলছে। ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষের মেয়াদ আছে জুন-২৭। বৃষ্টি কাল শুরু হওয়ায় কাজের এখনো বাকি ৩৭ শতাংশ আগামী বছর শুষ্ক মৌসুমে শেষ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘খনন কাজ কেশবপুর পৌর শহর অংশে এসে শহর অংশের দুই পাড়ের জমির মালিকদের অভিযোগ আপত্তিতে এলাকায় নদী খননে একটু বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন খনন কাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই জমির কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়ে বলেন, নদীর মধ্যে মালিকানা সম্পপ্তি রয়েছে আবার অনেকেই খুটি পুঁতে দিয়েছেন। সেটা দেখে সচেতন মহলের প্রশ্ন কিভাবে সম্ভব। অনেকের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে এখানে কোনো নদীই ছিল না।’
এ বিষয়ে নদীর পাড়ের বাসিন্দা মফিজুর রহমান বলেন, ‘শহর এলাকায় নদ খননে নকশা পরিবর্তন করা হলে বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হবে এবং জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে। খননের পরেও যদি নদী তার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে না পায়, তবে তীরবর্তী অসংখ্য মানুষের বাড়িঘর ভাঙ্গন বা ধসে পড়তে পারে। প্রভাবশালী দখলদারেরা জায়গা বাঁচাতে নদীর মূল নকশা পরিবর্তন করাসহ নানা অপচেষ্টার অবলম্বন করেছে অনেকে।’
হরি-ঘ্যাংরাইল অববাহিকার জলাবদ্ধতা নিরসন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘১৮-১৯ অর্থবছরে হরিহর নদের প্রশস্ততা বজায় রেখে খনন কাজ না করার কারণে বর্ষা মৌসুমে কেশবপুর -মনিরামপুরের জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। তাই নদীর নাব্যতা ফেরানোর জন্য সেনাবাহিনী খনন কাজের মান পরিপূর্ণ বাস্তাবয়ন দৃশ্যমান প্রত্যাশা করছি।’
পলাশ ব্যানার্জী বলেন, ‘আগামী ২০-২৬ জুলাই বর্ষাকাল শুরু। সেই হিসাবে আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ভবদহ এলাকার প্রকল্পভুক্ত ৬ নদীর সাথে যুক্ত সকল খালের মুখ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। খালের মধ্যে যত বাঁধ আছে, সেগুলো অপসারণ করে দেওয়া হবে। যাতে নদীগুলি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। মোটামুটি হরিহর নদের বেশিরভাগ অংশ খনন কাজ সম্পান্ন করায় এ বছর কেশবপুর-মনিরামপুর ও তালা উপজেলার সিংহভাগ অংশের মানুষ জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন। নদী খননে সিএস পরচা এবং নদের বাস্তবতা বিবেচনা করে খাল খনন করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী খননে সরকারি স্থাপনার ক্ষতি সাধন না করে, জনসাধারণের সম্পদের ক্ষতি কম করে এবং নদীর ডিজাইন অক্ষুন্ন রেখে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, হরি-ঘ্যাংরাইল অববাহিকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও পানি নিষ্কাশন করার জন্য ১৪০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ৬টি নদীর ৮১.৫০০ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় হরিহর নদীর খনন কাজ চলমান রয়েছে।
কেকে/এমএ