পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (২৩ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মানচিত্রটির ছবি প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট নিউইয়র্কে রিপাবলিকান পার্টির এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান সামনে ‘খুব বাজেভাবে’ হারতে যাচ্ছে। ইরানকে পরাজিত করার পর হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথাও জানান তিনি।
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালিটির এক পাশে ইরান এবং অপর পাশে ওমান অবস্থিত।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে তেহরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রও।
পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির পর হরমুজ থেকে অবরোধ তুলে নেয় ইরান। একই সময় ইরানের বন্দরগুলো থেকে প্রহরা প্রত্যাহার করে মার্কিন নৌবাহিনী।
তবে ১৩ জুলাই ইসলামাবাদ চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে। এখনো সেই অবরোধ বহাল রয়েছে।
এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমঝোতার লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট ইরান জানায়, কয়েক সপ্তাহের কারিগরি আলোচনার পর হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নৌপথের মানচিত্র নিয়ে ওমানের সঙ্গে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানকে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ