যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নেবে, ইরান তাদের শত্রু হিসেবে দেখবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব মোহসেন রেজাই।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে তার মিত্র দেশগুলোকেও তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক শেষ করার আহ্বান জানানোর প্রেক্ষিতে রেজাই এ সতর্কতা দিলেন।
আজ রোববার (২৩ আগস্ট) এ সতর্ক বার্তা দেন।
মোহসেন রেজাই বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে চলার পরও যদি কোনো দেশে হামলা প্রতিরোধ করা না যায়, তাহলে ‘আমরা কেন পারমাণবিক বোমা অর্জন করব না?’
তিনি মনে করেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে কিছু দেশ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করাটাই আরও ভালো প্রতিরক্ষামূলক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।
ইরান যখন পারমাণবিক অসংযোজন চুক্তি বা নিউক্লিয়ার নন-প্রোলিফেরেশান ট্রিটির সদস্য ছিল এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করছিল, তখনই ইরানকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল।
মোহসেন রেজাই আরও বলেন, ‘এখন পুরো বিশ্ব বলছে, এনপিটি বা পরমাণু শক্তি সংস্থার সদস্যপদ, কোনোটিই কার্যকর নয়। এর ফলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারমাণবিক বোমা অর্জনের ‘আকাঙ্ক্ষা’ বেড়ে গেছে।’
মোহসেন রেজাই তার সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালী নিয়েও সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘যদি কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ লিপ্ত হয়, তবে ইরান হরমুজ প্রণালী এবং পারস্য উপসাগর থেকে ‘এক ফোঁটা তেলও’ বের হতে দেবে না।’
‘ইরান তার যুদ্ধকৌশল এবং কূটনৈতিক আচরণে পরিবর্তন আনবে।’
মোহসেন রেজাইয়ের দাবি, সামরিক হামলায় ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা করছে।
গেল ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিক ইরানে হামলা চালায়। এই হামলার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ইরান ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। রক্তক্ষয়ী এ সংঘাত থামাতে পাকিস্তান উদ্যোগ নিলে মাঝে কিছুদিন যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে পরস্পর অবিশ্বাসের কারণে বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা স্থগিত রয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘গত ছয় মাসের এই বিরোধ অবসানের সময় এসেছে।’
কেকে/এমএ