সকালে অন্য দিনের মতোই কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন মো. হেলিম (৩২)। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন শ্রমিক। উদ্দেশ্য ছিল পাশের গ্রামে গিয়ে ধনিয়াপাতা সংগ্রহ করে দিনের আয় করা। কিন্তু কাজ শুরুর কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ আকাশ কালো করে নামে বৃষ্টি। এর মধ্যেই শুরু হয় বজ্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে বজ্রপাতে প্রাণ হারান হেলিম। এ ঘটনায় খোকন মিয়া (৪০) নামে আরও এক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের বৈরাটিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মো. হেলিম গুজাদিয়া ইউনিয়নের নামাপাড়া গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় শ্রমিক ছিলেন। সংসারে স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে তার। চার বছর, দুই বছর ও মাত্র নয় মাস বয়সী তিনটি সন্তানকে রেখে তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আহত খোকন মিয়া একই এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে। তাকে উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে হেলিমসহ আটজনের একটি শ্রমিক দল কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হন। তাঁরা পাশের নামাপাড়া গ্রামে ধনিয়াপাতা সংগ্রহ করতে যান। সকাল থেকে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও কাজের একপর্যায়ে হঠাৎ আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে। এরপর শুরু হয় বৃষ্টি ও বজ্রপাত।
শ্রমিকরা তখন ধনিয়াপাতা সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে হেলিম গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। একই সময় বজ্রপাতের বিকট শব্দে পাশে থাকা খোকন মিয়াও অচেতন হয়ে পড়ে যান।
ঘটনার পর সঙ্গে থাকা অন্য শ্রমিকরা দ্রুত তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় হেলিম ও খোকন মিয়াকে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. হেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত খোকন মিয়াকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় মো. হেলিমের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তার স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাত্র ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানসহ তিন সন্তানকে রেখে হেলিমের এমন মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
কেকে/এমএ